মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনায় রাশিয়ার পোয়াবারো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  ০৩ মার্চ ২০২৬, ২২:৩৬

ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানে হামলার করার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে।  আঘাত পাল্টা আঘাত হচ্ছে ইরান, ইসরাইল ও উপসাগরীয় দেশগুলোতে। পারস্য উপসাগর থেকে বিশ্বের এক-চতুর্থাংশ জ্বালানি সরবরাহ করা হয়। 
আর আরব দেশগুলো থেকে তেল ও গ্যাস বিশ্ববাজারে প্রবেশ করে ইরান নিয়ন্ত্রিত সরু পানিপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে।  এই জ্বালানি করিডোরখ্যাত বন্ধ করে দিয়েছে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। এতে হুহু করে বাড়ছে জ্বালানির মূল্য; ইউরোপের বাজারে গ্যাসের দাম ৩০ শতাংশ বৃদ্ধির খবর পাওয়া গেছে। তবে এতে একটি রাষ্ট্রের কপাল ‍খুলে গেছে।

রুশ অর্থনীতিতে প্রভাব
রুশ বার্তা সংস্থা তাসের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার (৩ মার্চ) স্টক মার্কেটে লেনদেন শুরুর সঙ্গে সঙ্গে রাশিয়ার শেয়ার বাজার ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।  তেল ও গ্যাসের দাম হুহু করে বাড়ছে, যার উল্লেখযোগ্য অংশের সরবরাহকারী রাশিয়া।
মার্কিন রাজনৈতিক বিশ্লেষক জন কাভুলিচ বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরাইলি হামলার কারণে বিশ্ববাজারে কাঁচামালের দাম বাড়ায় রাশিয়াসহ বেশ কিছু রপ্তানিকারক দেশের রাজস্ব সাময়িকভাবে বাড়তে পারে। 
কাভুলিচের মতে, রাশিয়া হবে এই পরিস্থিতির ‘সবচেয়ে দৃশ্যমান সুবিধাভোগী।’ 
ইমপ্লিমেন্টার গবেষণা পরিচালক মারিয়া বেলোভা জানান, হরমুজ প্রণালী দিয়ে কাতারের তরলীকৃত গ্যাস বা এলএনজি পরিবহনে সমস্যার কারণে রাশিয়ার এলএনজি রপ্তানিকারকদের রাজস্ব বাড়বে।

বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব
ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের এ সংঘাত চার সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন নতুন অর্থনৈতিক সংকটে পড়বে। আইএনজির কার্স্টেন ব্রজেস্কির মতে, ওই অঞ্চলের তেল ও গ্যাসের ওপর নির্ভরশীলতার কারণে ইইউ ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের জটিলতায় সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। 
ইউরোপীয় সেন্ট্রাল ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ফিলিপ লেন বলেছেন, দীর্ঘস্থায়ী সামরিক সংঘাত ও জ্বালানি সরবরাহ কমে গেলে ইউরোজোনে মুদ্রাস্ফীতি ব্যাপক বাড়তে পারে এবং উৎপাদন মারাত্মকভাবে কমে যেতে পারে। 
ফিনাম ফাইন্যান্সিয়াল গ্রুপের বিশ্লেষক সার্গে কাউফম্যান জানান, কাতার থেকে সরবরাহ দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে ইইউ রাশিয়ার এলএনজির ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা পুনর্বিবেচনা করতে পারে।