যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের হুঁশিয়ারি

হামলা হলে মার্কিন ঘাঁটি হবে বৈধ লক্ষ্যবস্তু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪:৩৮

যদি সামরিক হুমকির বাস্তবায়ন ঘটায় বা কোনও ধরনের হামলা চালায়, তবে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে অবস্থিত সব মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনা ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে গণ্য হবে। জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাঈদ ইরাভানি এই কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি এই খবর জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এবং নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতির কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এই সতর্কবার্তা দেন ইরাভানি। এএফপি চিঠির অনুলিপিটি দেখেছে।
ইরান যাতে পারমাণবিক বোমা তৈরি করতে না পারে, সেই লক্ষ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধজাহাজ, যুদ্ধবিমানসহ ব্যাপক সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করেছেন। তবে তেহরান বরাবরই দাবি করে আসছে যে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি বোমা তৈরির জন্য নয়।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প লিখেছিলেন, ইরান যদি চুক্তিতে না আসে, তবে যুক্তরাষ্ট্রকে ভারত মহাসাগরের দ্বীপসহ যুক্তরাজ্যের সামরিক ঘাঁটিগুলো ব্যবহারের প্রয়োজন হতে পারে। এ প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত ইরাভানি চিঠিতে লিখেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই যুদ্ধংদেহী বক্তব্য সামরিক আগ্রাসনের বাস্তব ঝুঁকি তৈরি করছে, যা আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য চরম হুমকি।
চিঠিতে জানানো হয়, ইরান এখনও ‘কূটনৈতিক সমাধানে’ বিশ্বাসী এবং পারমাণবিক কর্মসূচির অস্পষ্টতা দূর করতে আলোচনার জন্য প্রস্তুত। তবে কোনও আগ্রাসন চালানো হলে আত্মরক্ষার্থে মধ্যপ্রাচ্যের সব শত্রু ঘাঁটি লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
এদিকে ট্রাম্প বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য ইরানের হাতে বড়জোর ১৫ দিন সময় আছে। এই সময়ের মধ্যে সমাধান না হলে ওয়াশিংটন সামরিক হামলা চালাতে পারে বলেও আভাস দেন তিনি।
মঙ্গলবার জেনেভায় মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে ইরানি কূটনীতিকদের পরোক্ষ বৈঠকে কিছুটা অগ্রগতির খবর পাওয়া গিয়েছিল। তবে উত্তেজনার পারদ এখনও নামেনি।
উল্লেখ্য, গত বছরের জুনে ইসরায়েল ইরানে অতর্কিত হামলা চালালে আগের আলোচনার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। ১২ দিনের সেই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রও অংশ নিয়ে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলা চালিয়েছিল। সেই থেকে দুই দেশের সম্পর্ক চরম উত্তেজনার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।