ইরানে ধর্মনিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক রূপান্তরে নেতৃত্ব দিতে চান নির্বাসিত রেজা পাহলভি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২২:৪৮

ইরানের ক্ষমতাচ্যুত শেষ শাহর নির্বাসিত ছেলে রেজা পাহলভি বলেছেন, তিনি দেশটিতে একটি ‘ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ’ গড়ে তোলার জন্য নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত আছেন। ইরানে ক্ষমতার পরিবর্তন হওয়াটাই ‘সবচেয়ে ভালো উপায়’ বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যের পর শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) জার্মানির মিউনিখে এক সমাবেশে এ কথা বলেন তিনি।
ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা কমাতে দেশটির সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।  শনিবার সুইজারল্যান্ড বলেছে, আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ওমান সরকার আগামী সপ্তাহে জেনেভায় নতুন দফা বৈঠকের আয়োজন করবে। আর এর মধ্যেই রেজা পাহলভি ইরানে নেতৃত্ব দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করলেন।
রেজা পাহলভি ১৯৭৯ সালে ইসলামি বিপ্লবের আগে ইরান ছেড়েছিলেন। তারপর আর দেশে ফেরেননি। তিনি এখন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেন।
শনিবার মিউনিখে প্রায় দুই লাখ সমর্থকের সামনে বক্তব্য দেন রেজা পাহলভি। তিনি বলেন, ‘একটি ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতে পাড়ি দেওয়ার নিশ্চয়তা দিতে আমি এখানে এসেছি।’
রেজা পাহলভি আরও বলেন, ‘আপনাদের জন্য রূপান্তরের নেতা হিসেবে ভূমিকা রাখতে আমি অঙ্গীকারবদ্ধ, যেন একদিন আমরা ব্যালট বাক্সের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় আমাদের দেশের ভাগ্য চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করার সুযোগ পাই।’
এ সময় উপস্থিত জনতা ‘জাভিদ শাহ’ (শাহ দীর্ঘজীবী হোক) স্লোগান দিচ্ছিলেন। তারা সিংহ ও সূর্যের ছবিযুক্ত সবুজ, সাদা ও লাল রঙের পতাকা ওড়াচ্ছিলেন। পতাকার ছবিটি ক্ষমতাচ্যুত রাজতন্ত্রের প্রতীক।
ওই সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন ৬২ বছর বয়সী ইরানি নাগরিক সাইদ। তিনি বলেন, ‘ইরানের শাসনব্যবস্থা একটি মৃত শাসনব্যবস্থা। এর অবসান হওয়া উচিত।’
রেজা পাহলভি দেশের ভেতরে ও বাইরে থাকা ইরানি নাগরিকদের প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি তাদের শনি ও রোববার ইরানি সময় রাত ৮টায় নিজেদের বাড়ি ও ছাদের ওপর থেকে স্লোগান দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, যেন জার্মানি ও অন্যান্য দেশে চলমান প্রতিবাদ একযোগে হতে পারে।
শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের ডাউনটাউন থেকে ওয়াশিংটনের ন্যাশনাল মল পর্যন্ত বিভিন্ন সমাবেশে হাজার হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করেছিলেন। তারা ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছেন।
ইরানে গত মাসে বিক্ষোভ জোরালো হয়ে ওঠার পর ট্রাম্প বলেছিলেন, ওই আন্দোলনকে সমর্থন দিতে যুক্তরাষ্ট্র সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ করতে পারে।
ইরানে ওই বিক্ষোভ চলাকালে ব্যাপক ধরপাকড় ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছিল। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর হিসাব অনুযায়ী, ওই সময় কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছে।
শনিবার সমাবেশে যোগ দেওয়ার আগে মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে জড়ো হওয়া সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপ করেন পাহলভি। তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে বলছি, ইরানের মানুষ আপনাকে বলতে শুনেছে যে, তাদের জন্য সাহায্য আসছে। আপনার ওপর তাদের আস্থা আছে। তাদের সাহায্য করুন।’
রেজা পাহলভি আরও বলেন, ‘এখন ইসলামি প্রজাতন্ত্রের অবসান ঘটার সময় এসেছে।’
জানুয়ারিতে ইরানে সরকারি দমন–পীড়ন শুরু হওয়ার পর ট্রাম্প প্রথমে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র বিক্ষোভকারীদের সাহায্য করার জন্য প্রস্তুত আছে।
তবে অতি সম্প্রতি ট্রাম্পকে বিক্ষোভকারীদের চেয়ে তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচির দিকে বেশি মনোযোগ দিতে দেখা গেছে। মূলত এখন তার সামরিক হুমকিগুলো তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকেন্দ্রিক। গত বছরের জুনে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীগুলো তেহরানের পারমাণবিক স্থাপনার ওপর হামলা চালিয়েছিল।
১৯৭৯ সালে ইসলামি বিপ্লবের পরপরই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যায়। দেশ দুটির প্রতিনিধিরা গত সপ্তাহে ওমানে তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করেছেন। মধ্যস্থতাকারী দেশ ওমান আগামী সপ্তাহে জেনেভায় নতুন করে বৈঠকের আয়োজন করবে। তবে এ ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।

সূত্র: এএফপি।