
যুক্তরাষ্ট্র সরকারের এক কার্যালয়ের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) শেয়ার করা মানচিত্র নতুন বিতর্ক জন্ম দিয়েছে। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) নয়া দিল্লির সঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন বাণিজ্য সমঝোতার কথা জানাতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ভারতের যে মানচিত্র প্রকাশ করেছে তাতে পুরো কাশ্মীরকেই দেশটির অন্তর্গত দেখানো হয়েছে। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়ার।
এক্সে মার্কিন বাণিজ্য দূতের কার্যালয়ের পোস্টে ভারতের যে মানচিত্র প্রকাশ করা হয়েছে তাতে দেশটির নিয়ন্ত্রণে থাকা কাশ্মীরের সঙ্গে পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এমনকি একই মানচিত্রে চীনের দখলে থাকা কাশ্মীরের অংশ ‘আকসাই চীনও’ আছে। তবে বিষয়টি নিয়ে পাকিস্তান ও চীনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া প্রকাশ হয়নি।
নতুন মানচিত্রের মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসন কাশ্মীর ইস্যুতে কার্যত ভারতের দাবিই মেনে নিল বলে দাবি করছে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন ভারতের যত মানচিত্র প্রকাশ করেছিল তাতে পাকিস্তান ও চীন নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর ছিল না, এবারই প্রথম এমনটা হয়েছে।
একাধিক মার্কিন পণ্যের ভারতে ঢুকতে শুল্ক কমছে, এমনটা জানাতে গিয়ে ওই মানচিত্রসহ পোস্ট দেয় মার্কিন বাণিজ্য দূতের কার্যালয়। তাতে বলা হয়, কাঠবাদাম থেকে শুরু করে অসংখ্য পণ্য ভারতে নতুন বাজার পেতে যাচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ ও দেশটির সেনাপ্রধান আসিম মুনিরকে ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখতে দেখা যাচ্ছিল। এর মধ্যে এমন মানচিত্র ইসলামাবাদের জন্য বড় ধাক্কা বলেই বিবেচিত হবে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের সঙ্গেও বাণিজ্য বাড়াতে তৎপর। তারা এরই মধ্যে বেলুচিস্তানে শতাধিক কোটি ডলারের বিনিয়োগে রাজি হয়েছে বলে একাধিক ভারতীয় ও পাকিস্তানি গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে। পাকিস্তানের বিরল খনিজেও ওয়াশিংটনের নজর আছে, তারা পাকিস্তানের কাছে সামরিক সরঞ্জামও বেচছে।
শনিবার ভারতীয় সময় ভোরের দিকে যৌথ বিবৃতি দিয়ে অন্তর্বর্তী বাণিজ্য-সমঝোতার কথা জানায় ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র। এই বাণিজ্য-সমঝোতাকে স্বাগত জানিয়ে ট্রাম্পকে ধন্যবাদ দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে।
ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীয়ূষ গয়াল পরে জানান, নতুন এ সমঝোতা কার্যকর হলে ভারতীয় পণ্যের শুল্ক ১৮ শতাংশ হবে, ভারতের বস্ত্র, চামড়া, প্লাস্টিক, গৃহসজ্জা, রাসায়নিক শিল্পের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের দরজা খুলে যাবে। এর পাশাপাশি অনেক ভারতীয় পণ্যের ওপর কোনো শুল্ক আরোপ হবে না।
সমঝোতা অনুযায়ী মার্কিন কৃষিপণ্যসহ বেশ কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে ভারতও আমদানি শুল্ক কমাচ্ছে, কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে তুলেও নিচ্ছে বলে জানিয়েছে দেশটির গণমাধ্যমগুলো।