
শিক্ষার্থীদের সমর্থনে কথা বলেছিলেন বলিউডের ভাইজানখ্যাত অভিনেতা সালমান খান। বুধবার (২২ জুলাই) রাতে সবাইকে চমকে দিয়ে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করেছিলেন তিনি। শিক্ষার্থীদের সমর্থনে অন্য কথা বলেছিলেন ভাইজান। বৃহস্পতিবারের পোস্টে প্রতিবাদী শিক্ষার্থীদের বাড়ি ফেরার আবেদন জানিয়েছেন সালমান খান।
সামাজিক মাধ্যমে অভিনেতা লিখেছেন, শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও নিরাপত্তাই এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তাই তাদের আর উদ্বিগ্ন হওয়ার বা বাবা-মাকে উদ্বেগে রাখার দরকার নেই। প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে টুইট করেছেন। আমার বিশ্বাস, প্রশ্নফাঁসের জন্য যারা দায়ী, তাদের বিরুদ্ধে তিনি কঠোর ব্যবস্থা নেবেন। তিনি বলেন, তাই শিক্ষার্থীদের বলছি— বাড়ি ফিরে যাও, বাবা-মায়ের কাছে ফিরে যাও।
শুধু এখানেই শেষ নয়; সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের প্রতিও অনশন তুলে নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন সালমান খান। ভাইজান লিখেছেন—সোনম, যথেষ্ট হয়েছে। আর অনশন বাড়িও না। ভবিষ্যতে যদি আবার প্রয়োজন পড়ে, সে লড়াইয়ের জন্য শক্তি সঞ্চয় করে রাখো। যদিও আমার মনে হয়, আর সে প্রয়োজন হবে না। কিছু খেয়ে নাও। চাইলে বাড়ি থেকে তোমার জন্য খাবার পাঠিয়ে দেব।
সালমানের এ পোস্টে কিছুটা অবাক তার ভক্ত-অনুরাগীরা। বলি তারকার কাছে প্রায়ই আসে লরেন্স বিষ্ণোইয়ের থেকে প্রাণনাশের হুমকি। তার পরিবারকেও হুমকি দেওয়া হয়। তাই অনেকেই মনে করেছিলেন, ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলন নিয়ে তিনি মুখ খুলবেন না। কিন্তু বুধবার সবাইকে অবাক করে দিয়ে আন্দোলনের পক্ষে মুখ খোলেন সালমান খান। তিনিই প্রথম ‘খান’, যিনি মুখ খুলেছিলেন এ বিষয়ে। তাই অনেকেই প্রশংসা করেছিলেন।
এর আগে পোস্টে সালমান খান লিখেছিলেন—এটি খুবই শান্তিপূর্ণ একটি আন্দোলন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা হিংসাত্মক মোড় নেওয়ায় খুব খারাপ লাগছে। আহত ছাত্রছাত্রী এবং তাদের পরিবারের জন্য আমার সত্যিই খুব কষ্ট হচ্ছে। প্রশ্নপত্র ফাঁস অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। তবে দেশের শিক্ষার্থীরা যে আরও ভালো শিক্ষাব্যবস্থার দাবিতে একজোট হয়েছেন এবং তাদের অভিভাবকরাও পাশে দাঁড়িয়েছেন, তা দেখে ভালো লাগছে।
তিনি আরও বলেন, ওরা যে অবস্থান নিয়েছেন, তার প্রশংসা করি। পড়াশোনার প্রতি ওদের নিষ্ঠা, আন্তরিকতা এবং নিজের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার ইচ্ছা ও শিক্ষিত ভারত গড়ার স্বপ্ন সত্যিই প্রশংসনীয়।
সালমান খানের সেই পোস্ট থেকে মনে হয়েছিল— তিনি এ আন্দোলনের পক্ষে। লিখেছিলেন, এ প্রতিবাদই সঠিক পথ। আর ছাত্রছাত্রীরা শান্তিপূর্ণভাবেই সেই পথ বেছে নিয়েছেন। এ সাহস ও দৃঢ়তা সত্যিই অনুপ্রেরণা দেয়। শিক্ষার প্রতি এ প্রজন্মের আগ্রহ এবং লক্ষ্যই একদিন ভারতকে গর্বিত করবে। কিন্তু তার পরের দিনই অন্য সুরে পোস্ট করলেন। সালমানের অনুরাগীদের অনুমান— কোনো রকম চাপে পড়েই এমন পোস্ট করেছেন ভাইজান।