বিয়ে জরুরি, কিন্তু সঠিক মানুষের সঙ্গে হওয়া আরও জরুরি

বিনোদন ডেস্ক
  ১৫ মার্চ ২০২৬, ১২:৩৮

হালকা, সতেজ প্রেমের গল্পের ছবি ‘দো দিওয়ানে শেহের মে’তে প্রথমবার জুটি বেঁধেছেন সিদ্ধান্ত চতুর্বেদী ও ম্রুণাল ঠাকুর। সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া এই রোমান্টিক-কমেডি ছবিটি পরিচালনা করেছেন রবি উদয়ার। বক্স অফিসে খুব একটা ব্যবসা না করলেও ছবিটি দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা কুড়াচ্ছে। বিশেষ করে সিদ্ধান্ত-ম্রুণালের অভিনয় বেশ আলোচিত হয়েছে।
ছবিটি নিয়ে কথা বলতে মুম্বাইয়ে সাজিদ নাদিয়াদওয়ালার অফিসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন ম্রুণাল ঠাকুর। উপস্থিত ছিলেন প্রথম আলোর মুম্বাই প্রতিনিধি এবং আরও দুই সাংবাদিক। আড্ডায় উঠে আসে তাঁর শারীরিক পরিবর্তন, সহ-অভিনেতার সঙ্গে রসায়ন, ব্যক্তিগত অনিরাপত্তা, সৌন্দর্য নিয়ে সংগ্রাম এবং বিয়ে নিয়ে ভাবনা।
‘আপনাকে কিছুটা রোগা দেখাচ্ছে’, আলাপের শুরুতে একজন সংবাদকর্মীর এমন কথায় হেসে ফেললেন ম্রুণাল, ‘ভাববেন না যেন আমি জিরো ফিগার করতে চাই! আসলে কিছুদিন আগে অসুস্থ ছিলাম। এখন অনেকটাই সুস্থ। ভালো করে খেয়ে আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে চাই।’
ছবিতে সিদ্ধান্ত চতুর্বেদীর সঙ্গে তাঁর রসায়ন ইতিমধ্যে নজর কাড়ছে। বাস্তবেও কি সেই বন্ধুত্ব আছে? ম্রুণাল বলেন, ‘প্রচারণায় যেমন দেখেছেন, শুটিংয়েও আমরা ঠিক তেমনই ছিলাম। একে অপরের খেয়াল রাখি, ঝগড়া করি, আবার মিলেও যাই। সিড (সিদ্ধান্ত চতুর্বেদী) কাজের প্রতি ভীষণ নিবেদিত। অনেকেই জনপ্রিয়তার মাঝে হারিয়ে যায়, কিন্তু ও নিজের কাজ নিয়ে খুব মনোযোগী।’
শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা বলতে গিয়ে ম্রুণাল জানান, এ ছবির মাধ্যমে মুম্বাই শহরকে যেন নতুন করে চিনেছেন তাঁরা। ‘সিনেমায় আমি স্কুটি চালিয়েছি। সিএসটি থেকে চার্চগেট, কেসি কলেজ, এশিয়াটিক লাইব্রেরি—অনেক জায়গায় ঘুরেছি। সিডকে আমার কলেজের এলাকাও দেখিয়েছি।’
‘দো দিওয়ানে শেহের মে’র একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ‘অনিরাপত্তা’ ও ‘আত্মবিশ্বাস’। বাস্তব জীবনেও এর মুখোমুখি হয়েছেন ম্রুণাল। তিনি বলেন, ‘ছাত্রজীবনে অনেক প্রশ্নের উত্তর জানা সত্ত্বেও ক্লাসে হাত তুলতে পারতাম না। আত্মবিশ্বাসের অভাব ছিল। ইংরেজিতে মারাঠি টান থাকায় অস্বস্তি লাগত। উচ্চারণ নিয়ে মশকরা হতো। এমনকি আমার নাম নিয়েও অনেকে মজা করত।’ জানালেন, ইন্ডাস্ট্রিতে আসার পরও এসব নিয়ে সচেতন ছিলেন, ‘মনে হতো ইংরেজির অভিজাত উচ্চারণ দরকার। কিন্তু পরে বুঝেছি, যতক্ষণ এসবকে গুরুত্ব দেবেন, ততক্ষণই তা আপনাকে দুর্বল করবে। এখন আমি নিজের মতো থাকতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি।’ ম্রুণালের মতে, ছবির রোশনি চরিত্রের সঙ্গে তাঁর মিলও কম নয়। ‘৬০ শতাংশ রোশনি, ৪০ শতাংশ আমি,’ বলেন তিনি।
রক্তাক্ত প্রেমকাহিনির ভিড়ে এ ছবি ম্রুণালের কাছে আলাদা এক বাতাস। তিনি বলেন, ‘যাঁরা ভালোবাসায় বিশ্বাস করেন, তাঁরা আমাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছেন। আমরা এমন একটি ছবি করতে চেয়েছি, যা প্রেমের আবেগকে আবার ফিরিয়ে আনবে। সোশ্যাল মিডিয়ার ভিড়ে সেই আবেগ যেন হারিয়ে যাচ্ছে।’
ক্যারিয়ারের শুরুতে সৌন্দর্য নিয়েও ম্রুণালের তেমন সুখকর অভিজ্ঞতা ছিল না। প্রথম ছবি লাভ সোনিয়ার অডিশনের সময় ফোল্ডারে লেখা ছিল ‘ডু নট ওপেন’। ম্রুণাল বলেন, ‘তবে পরিচালক সেটা খুলেছিলেন বলেই সুযোগটা পাই। সোনিয়া ছিল গ্রামের মেয়ে। প্রযোজকদের বোঝাতে হয়েছিল, মেকআপে সব ঠিক করা যাবে। তখনই বুঝেছি, শুধু সৌন্দর্য দিয়ে কিছু হয় না। সবার জীবনেই সংগ্রাম আছে।’
তারকাখ্যাতির আড়ালের কিছু আক্ষেপও ম্রুণালের আছে, ‘কখনো মনে হয়, যদি সাধারণ মেয়ে হতাম! পরিবারের সঙ্গে বাইরে ডিনারে যেতে পারতাম। এমনও হয়েছে, কাছের মানুষের শেষকৃত্যে যেতে পারিনি!’
প্রেমের গুঞ্জনের পর ধানুশের সঙ্গে বিয়ে? ম্রুণাল বললেন...
ছবিটির প্রযোজক খ্যাতিমান নির্মাতা সঞ্জয় লীলা বানসালি। তাঁর প্রশংসা এখনো ম্রুণালের মনে গেঁথে আছে। ‘সীতা রামম দেখার পর তিনি বলেছিলেন, “অনেক দিন পর এমন একজন মারাঠি মেয়ে এসেছে, যে কোনো শোরগোল না করে বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের জায়গা তৈরি করছে।” বিশ্বাস করুন, এটা আমার কাছে অনেক বড় প্রশংসা।’
ম্রুণালের কাছে জানতে চাইলাম, হিন্দি ও দক্ষিণি—দুই ইন্ডাস্ট্রিতেই সমানতালে কাজ করছেন, পার্থক্য কোথায়? ম্রুণাল হাসতে হাসতে বলেন, ‘সবচেয়ে বড় পার্থক্য ভাষা। এখানে বড়াপাও, ওখানে ইডলি বড়া।’
ব্যক্তিগত জীবন প্রসঙ্গে বিয়ে নিয়েও খোলামেলা কথা বলেন এই অভিনেত্রী, ‘আমি ছোটবেলা থেকেই বিয়ের স্বপ্ন দেখি। আমার কাছে বিয়ে খুব পবিত্র সম্পর্ক। যদি এমন কাউকে পাই, যার সঙ্গে মানসিকভাবে মিলবে, তাহলে ঝটপট বিয়ে করে নেব।’ তবে তাঁর বিশ্বাস, ‘বিয়ে জরুরি, কিন্তু সঠিক মানুষের সঙ্গে হওয়া আরও জরুরি। শুধু বিয়ের জন্য বিয়ে করা ঠিক নয়।’
কেমন মানুষকে জীবনসঙ্গী হিসেবে চান? লাজুক হেসে ম্রুণাল বলেন, ‘যার নেতৃত্বগুণ আছে। যে পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে এগোয়। আমার কাজকে সম্মান করবে। আমার খামতিগুলো মেনে নেবে। আর যার সঙ্গে থাকলে মানসিক শান্তি পাব।’
সব মিলে বোঝা গেল, প্রেম ও বিয়েতে বিশ্বাস রাখেন ম্রুণাল। তবে তাড়াহুড়া নয়। সঠিক মানুষের অপেক্ষাতেই আছেন তিনি, ‘যদি সেই মানুষটা জীবনে আসে, তাহলে আর দেরি করব না।’