
বহুদিন ধরে চলা জল্পনা-গুঞ্জনের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে নিজেরাই বিয়ের খবর নিশ্চিত করলেন দক্ষিণি সিনেমার আলোচিত জুটি রাশমিকা মান্দানা ও বিজয় দেবরাকোন্ডা। সম্পর্ক নিয়ে এত দিন প্রকাশ্যে নীরব থাকলেও রোববার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যৌথ বার্তায় তাঁরা জানান, জীবনের নতুন অধ্যায়ে পা রাখছেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর তাঁদের এই ঘোষণা ভক্তদের কৌতূহলকে দিল আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি।
‘বিরোশ’ নামেই বিয়ের ঘোষণা
ভক্তদের দেওয়া জনপ্রিয় নাম ‘বিরোশ’—দুজনের নাম মিলিয়ে তৈরি এই সম্বোধনকেই বিয়ের আনুষ্ঠানিক পরিচয় হিসেবে বেছে নিয়েছেন তারকা জুটি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁরা লেখেন, ‘আমরা কিছু পরিকল্পনা করার আগেই তোমরা আমাদের সঙ্গে ছিলে। অনেক ভালোবাসা দিয়ে আমাদের নাম দিয়েছিলে—বিরোশ।’
জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এ মুহূর্তে ভক্তদের সেই নামকেই ধারণ করে তাঁরা বিয়ের ঘোষণা দেন। ভক্তদের উদ্দেশে কৃতজ্ঞতাও জানান, ‘তোমরা আমাদেরই অংশ। অনেক ভালোবাসা ও আলিঙ্গন।’
ঘনিষ্ঠ সূত্র বলছে, ২৬ ফেব্রুয়ারি রাজস্থানের একটি প্রাসাদে অনুষ্ঠিত হবে মূল বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা। ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হবে বিয়ের বিভিন্ন আচার। দুই পরিবারের নিজস্ব রীতিনীতি মেনে আলাদা আয়োজনও হয়েছে—একটি রাশমিকার পরিবারের উদ্যোগে, অন্যটি বিজয়ের পরিবারের পক্ষ থেকে। এবারের আয়োজনের বিশেষ দিক—কড়া গোপনীয়তা। বিয়ের ভেন্যুতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। অতিথির তালিকা সীমিত। অনুষ্ঠানে মুঠোফোন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। এমনকি যাঁরা ছবি বা ভিডিও ধারণ করবেন, তাঁদেরও ‘নন-ডিসক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্ট’ বা গোপনীয়তা চুক্তিতে সই করতে হয়েছে। অর্থাৎ ‘নো ফোন, নো লিক’ নীতিতেই হচ্ছে এই বহুল আলোচিত আয়োজন।
৪ মার্চ হায়দরাবাদে সংবর্ধনা?
বিয়ের অনুষ্ঠান থাকবে একান্ত ব্যক্তিগত পরিসরে। তবে ৪ মার্চ হায়দরাবাদে ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও চলচ্চিত্র অঙ্গনের সহকর্মীদের জন্য একটি বড় সংবর্ধনার আয়োজন করা হতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে। যদিও এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
২০১৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘গীতা গোবিন্দাম’ ছবিতে প্রথমবারের মতো একসঙ্গে কাজ করেন রাশমিকা মান্দানা ও বিজয় দেবরাকোন্ডা। রোমান্টিক এই ছবিতে তাঁদের স্বতঃস্ফূর্ত অভিনয় আর পর্দার সহজাত রসায়ন মুহূর্তেই দর্শকের মন কাড়ে। বক্স অফিসে সাফল্যের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাঁদের জুটি নিয়ে শুরু হয় আলোচনা।
এরপর ‘ডিয়ার কমরেড’-এ আবারও জুটি বাঁধেন তাঁরা। ভিন্ন স্বাদের, আবেগঘন এই ছবিতে তাঁদের সম্পর্কের গভীরতা ও সংবেদনশীল অভিনয় দর্শক-সমালোচক উভয়ের প্রশংসা পায়। দুই ছবির পর থেকেই পর্দার রসায়ন বাস্তবেও কি রূপ নিচ্ছে—এমন প্রশ্ন ঘুরতে থাকে ভক্তমহলে।
একসঙ্গে বিদেশ ভ্রমণ, পারিবারিক অনুষ্ঠানে উপস্থিতি কিংবা একই সময়ে একই জায়গায় ছুটি কাটানোর ছবি—সব মিলিয়ে জল্পনা ক্রমেই ঘনীভূত হয়। তবু ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে বরাবরই সংযত ছিলেন দুজনেই। সাক্ষাৎকারে প্রশ্ন এলে কৌশলে এড়িয়ে গেছেন, কখনোই সরাসরি স্বীকার বা অস্বীকার করেননি।
সম্প্রতি বাগ্দানের গুঞ্জনও ছড়িয়ে পড়ে বিনোদন অঙ্গনে। যদিও সে সময়ও তাঁরা নীরব ছিলেন। অবশেষে নিজেদের মুখেই বিয়ের ঘোষণা আসায় বহুদিনের সেই অনিশ্চয়তার অবসান ঘটল। পর্দায় শুরু হওয়া একটি সফল জুটির গল্প এবার বাস্তব জীবনেও পেল আনুষ্ঠানিক পরিণতি।
২০২৪ সালেও রাশমিকা আলোর এই উৎসব কাটিয়েছেন তাঁর ‘জীবনের ধ্রুবতারা’ বিজয় দেবরাকোন্ডার বাড়িতে।
২০২৪ সালেও রাশমিকা আলোর এই উৎসব কাটিয়েছেন তাঁর ‘জীবনের ধ্রুবতারা’ বিজয় দেবরাকোন্ডার বাড়িতে।
নতুন অধ্যায়ের অপেক্ষা
তারকাদের জাঁকজমকপূর্ণ ‘ডেস্টিনেশন ওয়েডিং’-এর যুগে রাশমিকা মান্দানা ও বিজয় দেবরাকোন্ডার এই নিয়ন্ত্রিত, সংযত আয়োজন আলাদা নজর কাড়ছে। আলোঝলমলে প্রচারের বদলে তাঁরা বেছে নিয়েছেন ব্যক্তিগত পরিসর ও নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া পথ। ভক্তদের মতে, ২৬ ফেব্রুয়ারি তাই শুধু একটি বিয়ের দিন নয়—দক্ষিণি সিনেমার জনপ্রিয় জুটির বাস্তব জীবনের নতুন সূচনার দিন। এখন তাঁদের অপেক্ষা, কবে তাঁদের পক্ষ থেকে প্রকাশ পাবে বিয়ের প্রথম আনুষ্ঠানিক ছবি।