হামলাকারী ছাত্রদল নেতাদের বাঁচাতে সিসিটিভি ফুটেজ ডিলিট করল প্রভোস্ট

ডেস্ক রিপোর্ট
  ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৫:০৫

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় সাংবাদিকদের পেটানোর অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের উপর। এদিকে, হামলাকারী ছাত্রদল নেতা-কর্মীদের বাঁচাতে সিসিটিভি ফুটেজ ডিলিট করার অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট হল প্রভোস্ট অধ্যাপক মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে।
জানা গেছে, পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে রবিবার (৪ অক্টোবর) রাত ৮টায় সাংবাদিকদের উপর অতর্কিত হামলা চালায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এ ঘটনায় গুরুতর আহত চারজনসহ প্রায় ১০ জন সাংবাদিক আহত হয়েছেন। হামলায় নেতৃত্ব দেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি আহসান হাবিব, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম, সহসভাপতি শরিফুল ইসলাম এবং সহদপ্তর সম্পাদক শাহরিয়ার আলমসহ অনেকে।
এতে গুরুতর আহত হন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আরিফ উজ্জামান কোরবান, আগামীর সময়ের প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম, দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিনিধি নূর আহসান মৃদুল এবং দৈনিক সমকালের প্রতিনিধি মাঈনুল ইসলাম রাজু-সহ কয়েকজন সাংবাদিক।
এ ঘটনায় ক্যাম্পাসের ক্রিয়াশীল সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা-কর্মীদের শাস্তির আওতায় আনতে হল প্রভোস্টের সহযোগিতা চান। এ সময় সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের কথা বললে তা দিতে অস্বীকৃতি জানান তিনি। এতে ফুটেজ নষ্ট করার আশঙ্কায় সিসিটিভির হার্ডডিস্ক খুলে আনেন তারা। ফুটেজ নিয়ে আবার ফিরিয়ে দেওয়া হবে বলে জানান সাংবাদিকেরা।
তবে সাংবাদিকেরা দাবি করেন, হার্ডডিস্কে কোনো ফুটেজ পাওয়া যায়নি। হামলাকারীদের আড়াল করতে ঘটনা ঘটার পরপরই সব ফুটেজ ডিলিট করে দেন হল প্রভোস্ট।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সংগঠন প্রেসক্লাবের সভাপতি আশিকুল ইসলাম বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলার মতো একটি গুরুতর ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ চাওয়া হয়েছিল, যাতে হামলাকারীদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যায়। কিন্তু হল প্রভোস্ট ফুটেজ দিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে হার্ডডিস্ক খুলে নিয়ে আসা হয়। তবে সেখানে কোনো ফুটেজ পাওয়া যায়নি। হামলাকারীদের রক্ষা করতে হল প্রভোস্টের তত্ত্বাবধানে ইচ্ছাকৃতভাবে ফুটেজ মুছে ফেলা হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়।
তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ ও তা নষ্ট করার অভিযোগও তদন্তের আওতায় আনতে হবে।
তবে বিষয়টি অস্বীকার করে প্রাধ্যক্ষ মাহবুবুর রহমান বলেন, সংস্কার কাজ চলমান থাকায় তখন সিসিটিভির সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। সেজন্য কোনো ফুটেজ নাই। ফুটেজ ডিলিট করার অভিযোগ পুরোপুরি মিথ্যা।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. আব্দুল আলিম বলেন, তথ্যগুলো সংরক্ষিত আছে। অভিযোগ যে কেউ করতে পারে। ডকুমেন্টসের কোনো অভাব নেই। তদন্ত কমিটি যেখান থেকে তথ্য সংগ্রহ করার সেখান থেকে করবে।