জামায়াতে গেলে মানুষের হিতাহিতজ্ঞান থাকে না, কর্নেল অলি তার বাস্তব উদাহরণ

রাশেদ খানের পোস্ট
ডেস্ক রিপোর্ট
  ০৩ আগস্ট ২০২৬, ২৩:২৬

একজন বর্ষীয়ান নেতা হয়েও আমার মা-বাবাকে নিয়ে ঘৃণ্য বক্তব্য দিয়ে আপনি নিজের বংশ ও জাত চেনালেন! জামায়াতে গেলে যে মানুষের হিতাহিতজ্ঞান থাকে না, আপনি (কর্নেল অলি আহমেদ) তার নিকৃষ্ট ও বাস্তব উদাহরণ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান।
রোববার দিবাগত মধ্যরাতে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।
পোস্টে রাশেদ খান লিখেছেন, কর্নেল অলি আহমেদের মত মানুষ আমার সমালোচনা সহ্য করতে না পেরে, আমার বাবা-মায়ের পরিচয় নেই বলে যে ধরনের ঘৃণ্য বক্তব্য দিয়েছেন, এরপর থেকে তিনি আর ন্যূনতম সম্মান পাওয়ার যোগ্যতা রাখেন না! তবুও আমি তাকে সম্মান দিয়েই কথা বলব...। মিস্টার কর্নেল অলি আহমেদ, আপনি ১ সপ্তাহের মধ্যে বিএনপি সরকারের পতন ঘটানোর হুমকি দেওয়ার প্রেক্ষিতে গোয়েন্দা সংস্থার এজেন্ট মাসুদ করিমের সঙ্গে আপনার সখ্যতা ও লেনদেনের বিষয়টি আমি সামনে এনেছি, যে সংবাদ ইতোপূর্বে প্রথম আলোসহ বিভিন্ন পত্রিকায় এসেছিল। আপনার সৎ সাহস থাকলে বলুন যে, আপনার সঙ্গে মাসুদ করিমের কোনো সম্পর্ক ছিল না
তিনি লেখেন, আপনি আমাকে ‌‘র’ বা মোসাদের এজেন্ট বলেছেন। কিন্তু এই বাংলাদেশে আমরা যখন আধিপত্য বিরোধী সংগ্রাম করতে গিয়ে মাইর খেয়েছি, মামলা খেয়েছি, তখন আপনি হাসিনার গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে আপোস করে বিরোধীদলের আন্দোলনকে ব্যর্থ করার ফাঁদে পা দিয়েছিলেন। আপনি জামায়াতের হাতে আসন তুলে দেওয়ার জন্য বিএনপি থেকে বেশি আসন চেয়েছিলেন, কিন্তু বিএনপি তদন্ত করে পায় যে, দুর্বল প্রার্থীদের কাছে এতো আসন ছাড়লে, সব জামায়াতের দখলে যাবে!
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী লেখেন, আপনি যে জামায়াতের হয়ে খেলতেছিলেন, সেটির প্রমাণই জামায়াত জোটে আপনার যোগদান করা। তার মানে বিএনপি সঠিক ছিল। আপনার মনে রাখা উচিত, আমার বাপ-মা যেসময় (কোটা সংস্কার আন্দোলন) আমার মুক্তির দাবিতে আন্দোলন করেছে, সেসময় আপনি গোয়েন্দা সংস্থার খপ্পরের মধ্যে ছিলেন। 
তিনি আরও লেখেন, আমি রাশেদ খান আমার কোনো বংশ মা-বাবার পরিচয়ে এই পর্যন্ত আসিনি। আল্লাহর অশেষ রহমতে একজন শ্রমিকের সন্তান হয়েও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা (আমার চৌদ্দ গোষ্ঠীর মধ্যে আমি একমাত্র গ্রাজুয়েট), ১৮-২৪ সাল পর্যন্ত ফ্যাসিবাদ বিরোধী লড়াইয়ে একজন সম্মুখ যোদ্ধা হিসেবে ভূমিকা রাখতে সর্বাত্মক চেষ্টা করেছি। কিন্তু একজন বর্ষীয়ান নেতা হয়েও আমার মা-বাবাকে নিয়ে ঘৃণ্য বক্তব্য দিয়ে আপনি নিজের বংশ ও জাত চেনালেন! জামায়াতে গেলে যে মানুষের হিতাহিতজ্ঞান থাকে না, আপনি (কর্নেল অলি আহমেদ) তার নিকৃষ্ট ও বাস্তব উদাহরণ।