যেভাবে গ্রেফতার হলেন দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন

ডেস্ক রিপোর্ট
  ৩০ জুলাই ২০২৬, ০০:১৬


চট্টগ্রাম নগরের আলোচিত ও শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন ও তার তিন সহযোগীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ভারতে পালানোর আগেই অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
বুধবার ভোরে যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম যশোর-নড়াইল মহাসড়কের ঝুমঝুমপুর এলাকা থেকে একটি প্রাইভেটকার তল্লাশি করে তাকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারের পর বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে চট্টগ্রাম পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।  
গ্রেফতার হওয়া তিন সহযোগী হলেন- ঢাকার শ্যামপুর এলাকার আল ইসলাম আলিফ ওরফে তমাল (২৫), মতিঝিল এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ শামিম (২৮) ও যাত্রাবাড়ী এলাকার সাফায়েত হোসেন (২৮)।
ডেভিড ইমন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার মো. মুসার ছেলে। একসময় এলাকায় সাধারণ জীবনযাপন করলেও পরবর্তী সময়ে চট্টগ্রামের আলোচিত সন্ত্রাসী সাজ্জাদ গ্রুপে যোগ দেন তিনি। এরপর নগরীতে একাধিক হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন অপরাধে তার নাম জড়ায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিদেশি পিস্তল হাতে তার একাধিক ছবিও ছড়িয়ে পড়ে।
পুলিশ সূত্র জানায়, ডেভিড ইমন ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে- এমন গোপন তথ্য ছিল যশোর পুলিশের কাছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম যশোর-নড়াইল মহাসড়কের ঝুমঝুমপুর এলাকায় অবস্থান নেয়। বুধবার ভোরে কালো রঙের একটি প্রাইভেটকার সন্দেহ হলে তল্লাশি চালালে ইমনকে শনাক্ত করে পুলিশ। ইমনের আলোচিত গোঁফ কেটে ফেলায় পুলিশের চিনতে বেগ পেতে হয়।
পরে একপর্যায়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেন তিনি চট্টগ্রাম নগরের আলোচিত ও শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন। এ সময় গাড়ির ভিতরে আরও তার তিন সহযোগীকেও আটক করা হয়।
যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম জানান, ডেভিড ইমন ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন- এমন গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ভোর ৩টার দিকে একটি সন্দেহভাজন প্রাইভেটকার তল্লাশি করা হয়। এ সময় ইমনসহ তার তিন সহযোগীকে আটক করা হয়। গ্রেফতারের পর আইনি প্রক্রিয়া শেষে বুধবার সকাল ১০টায় তাকে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
পুলিশের অপরাধ রেকর্ড অনুযায়ী, ডেভিড ইমনের বিরুদ্ধে ডাবল মার্ডার (জোড়া খুন) এবং চট্টগ্রাম ও দেশের বিভিন্ন এলাকায় ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানে কোটি টাকা চাঁদা দাবির হামলাসহ অন্তত ৭টি গুরুতর ফৌজদারি মামলা রয়েছে। চট্টগ্রামে সাম্প্রতিক সময়ে আন্ডারওয়ার্ল্ডের নিয়ন্ত্রণ ও চাঁদাবাজির চক্র সচল রাখার পেছনে তার মূল ভূমিকা ছিল বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।