
প্রজ্ঞাপন জারির পরও সিলেটে দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারেননি নতুন নিয়োগ পাওয়া জেলা প্রশাসক (ডিসি) মু. রেজা হাসান। তিনি সেখানে যোগদান করতে পারবেন কিনা এ বিষয়েও স্পষ্ট কিছু বলছে না জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। ফলে ঘুরেফিরে আলোচনায় বিদায়ী ডিসি সারোয়ার আলমের নাম।
সিলেটের ভারপ্রাপ্ত ডিসি পিংকি সাহা জানান, গত ১ জুলাই ডিসি স্যার কুমিল্লা থেকে সিলেটে আসবেন বলে আমাদের জানানো হয়েছিল। পরে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, তিনি আসছেন না। কবে আসবেন, তা পরে জানানো হবে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সিলেটে যাওয়ার উদ্দেশে ঢাকা বিমানবন্দরে পৌঁছেও শেষ মুহূর্তে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ফিরে যেতে হয় রেজা হাসানকে। এদিকে কুমিল্লায় তার স্থলাভিষিক্ত রোজী আকতার গত বুধবার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
একাধিক প্রশাসনিক সূত্র জানিয়েছে, ওই দিনই রেজা হাসানকে সচিবালয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে দেখা যায়।
সিলেট জেলা প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কী কারণে রেজা হাসান দায়িত্ব নিতে পারছেন না, তা তাদের অজানা। নতুন কোনো নির্দেশনা তাদের কাছে পৌঁছায়নি। ফলে রেজা হাসান সিলেটে যোগ দেবেন, নাকি অন্য কাউকে পদায়ন করা হবে সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছেন না।
প্রশাসনের দায়িত্বশীল একাধিক সূত্রের দাবি, সরকারের একজন প্রভাবশালী মন্ত্রীর আপত্তির কারণেই শেষ মুহূর্তে রেজা হাসানের যোগদান আটকে যায়। তবে এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কিংবা সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।
এর আগে ২১ জুন সিলেটের ডিসি মো. সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে উপসচিব হিসেবে সংযুক্ত করা হয়। প্রজ্ঞাপনে বদলির কারণ উল্লেখ না থাকলেও প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়।
দায়িত্ব পালনকালে সারওয়ার আলম কয়েকটি আলোচিত পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসেন হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরাণের (রহ.) মাজারে দানের অর্থের ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়ে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দানবাক্স ও ঐতিহ্যবাহী দানের ডেগ সিলগালা করা হলে মাজার কর্তৃপক্ষ ও একাংশ ভক্ত-অনুসারী এর বিরোধিতা করেন।
অন্যদিকে, স্বচ্ছতা নিশ্চিতের উদ্যোগ হিসেবে অনেকেই সেই পদক্ষেপকে সমর্থন জানিয়েছিলেন।