স্থানীয় নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের সই করতে হবে ‘অঙ্গীকারনামায়’, কী আছে এতে

ডেস্ক রিপোর্ট
  ০১ জুন ২০২৬, ২২:১৭


জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের প্রার্থী হওয়ার পথ বন্ধ করতে নতুন বিধান আনতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আচরণ বিধিমালায় ‘অঙ্গীকার’ নামে একটি নতুন বিধি যুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের প্রস্তুত করা খসড়া অনুযায়ী, নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী সম্ভাব্য প্রার্থীদের নির্বাচন কমিশন নির্ধারিত একটি অঙ্গীকারনামায় সই করতে হবে। সেখানে উল্লেখ থাকবে যে, তারা কোনো নিষিদ্ধ বা নিষেধাজ্ঞার আওতাধীন রাজনৈতিক দল বা সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অঙ্গীকারনামায় ভুল বা গোপন তথ্য দেওয়া হলে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকবে। এর ফলে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগসহ অন্যান্য নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের পদধারী নেতাকর্মীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ সীমিত হয়ে যাবে।
সম্প্রতি স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিভিন্ন আচরণ বিধিমালা ও পরিচালনা বিধিমালার সংশোধনী খসড়া প্রস্তুত করেছেন ইসির কর্মকর্তারা। ঈদের ছুটি শুরুর আগে ২৪ মে খসড়াগুলো প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও চার নির্বাচন কমিশনারের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে। শিগগিরই এসব প্রস্তাব নিয়ে কমিশনের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইসির একাধিক কর্মকর্তা জানান, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আচরণ বিধিমালার খসড়াকে ‘মডেল’ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। কমিশন যেসব সংশোধনীতে সম্মত হবে, সেগুলো সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ ও জেলা পরিষদ নির্বাচনের আচরণ বিধিমালায় প্রয়োজন অনুযায়ী অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
তাদের ভাষ্য, নির্বাচন কমিশনের আইন সংস্কার কমিটির বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা ও আচরণ বিধিমালার সংশোধনী নিয়ে আলোচনা হয়। এরপরই খসড়াগুলো প্রস্তুত করা হয়েছে। কমিশনারদের মতামতের ভিত্তিতে এগুলোতে আরও পরিবর্তন আসতে পারে।
বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে অঙ্গীকারনামা জমা দেওয়ার বিধান রাখা হবে।
তিনি বলেন, ‘এটা আমাদের রাখতে হবে। ইনশাআল্লাহ আমরা এই বিধান রাখব।’
আওয়ামী লীগকে লক্ষ্য করেই এই বিধান যুক্ত করা হচ্ছে ক না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কোনো দল বা সংগঠনকে সামনে রেখে এটি করা হচ্ছে না। বাংলাদেশে কয়েকটি দল নিষিদ্ধ আছে। বিদ্যমান আইন বিবেচনায় নিয়েই এই বিধান আনা হচ্ছে। কোনো দলকে টার্গেট করে নয়।’
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গণহারে মানুষ হত্যার অভিযোগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়। পরে এ বিষয়ে আইনি সংশোধনী আনা হয় এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) ও আচরণ বিধিমালাতেও পরিবর্তন করা হয়। ফলে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি।
এবার একই ধরনের বিধান স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার বিদ্যমান বিধানও বাতিলের প্রস্তাব করা হয়েছে।
বর্তমানে দেশের সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার মেয়র এবং জেলা পরিষদ ও উপজেলা পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যানদের বেশিরভাগ পদ শূন্য রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে অনির্বাচিত প্রশাসকেরা দায়িত্ব পালন করছেন।
নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি বছরের শেষ দিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে। তবে কোন স্তরের নির্বাচন আগে অনুষ্ঠিত হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
ইসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আগে হলে সেখানে অন্য স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধিদের প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তুলনামূলক কম থাকবে। তবে পরবর্তী পর্যায়ের নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রভাব ও বিতর্ক এড়াতেই নতুন অঙ্গীকারনামার বিধানসহ বিভিন্ন সংশোধনী আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।