
পবিত্র ঈদুল আজহা আর এক দিন পরই। রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে কোরবানির পশুর ঐতিহ্যবাহী হাটগুলো পুরোপুরি জমে উঠেছে। শেষ মুহূর্তে কেনাবেচায় ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারি, বিক্রেতা এবং ক্রেতারা। হাটে হাটে এখন শুধুই মানুষের কোলাহল আর পশুর ডাক। বিশাল আকৃতির পশুগুলোর হরেক রকমের নাম নজর কাড়ছে ক্রেতাদের। তবে ভারী বৃষ্টির কারণে রাজধানীর গরুর হাতে সৃষ্টি হয় ভয়াবহ জলাবদ্ধতা। কাদা আর পানিতে হাটজুড়ে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ে পড়েন চরম ভোগান্তিতে।
ঢাকার গাবতলী গরুর স্থায়ী হাট, মেরাদিয়া, আমুলিয়া, বকশীবাজার, পোস্তগোলা, শাহজাহানপুর, রহমতগঞ্জ, শ্যামপুর, সানভ্যালী, কাজলা-মাতুয়াইল এলাকা, দয়াগঞ্জ-জুরাইন, গোলাপবাগ, উত্তরা দিয়াবাড়ীসহ বেশ কয়েকটি হাট ঘুরে দেখা গেছে, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ট্রাক ভরে পশু আসছে। কুষ্টিয়া, পাবনা, সিরাজগঞ্জ ও রাজশাহী, নাটোর থেকে খামারিরা তাদের সেরা পশুগুলো নিয়ে হাজির হয়েছেন ঢাকার হাটগুলোতে। বিক্রেতারা জানান, এবার হাটে দেশি গরুর সরবরাহ বেশি। বিশেষ করে মাঝারি আকারের গরুর চাহিদা ও আমদানি দুই-ই চোখ পড়ার মতো। পশুর এই বিপুল আমদানিতে হাট কর্তৃপক্ষ এবং ইজারাদাররা বেশ সন্তুষ্ট। হাটে যেমন ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় তেমনি কেনাবেচাও তুঙ্গে। অধিকাংশ ক্রেতাই চষে বেড়াচ্ছেন হাটের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত। তবে এবারও ক্রেতাদের মূল আকর্ষণ মাঝারি আকারের (১ থেকে ২ লাখ টাকা বাজেট) গরুর দিকে। ক্রেতাদের মতে, হাটে পশুর কোনো কমতি নেই, তবে দাম গত বছরের তুলনায় কিছুটা চড়া মনে হচ্ছে। মিরপুর থেকে গাবতলী হাটে আসা ক্রেতা জুলফিকার বলেন, ‘পছন্দমতো গরু অনেক আছে, কিন্তু বিক্রেতারা দাম ছাড়ছেন না। আশা করছি আজ-কালের মধ্যে দাম কিছুটা নাগালের মধ্যে আসবে।’ হাটের এক কোণায় রীতিমতো ভিড় জমছে বিশাল আকৃতির ও বাহারি নামের গরুগুলোকে দেখার জন্য। ‘কালা পাহাড়’, ‘বাংলার সম্রাট’ কিংবা ‘বাহাদুর’ এমন নানা চমকপ্রদ নামে ডাকা হচ্ছে এসব বিশালকায় গরুকে। শৌখিন ও উচ্চবিত্ত ক্রেতারা এই বড় গরুগুলোর দাম হাঁকাচ্ছেন। শুধু গরুই নয়, ছাগল ও ভেড়ার হাটেও ক্রেতাদের উপস্থিতি লক্ষ্যণীয়।
গাবতলী হাটের পশু ব্যবসায়ী সুরুজ মিয়া বলেন, ‘বড় পশুর নাম সেলিব্রেটিদের নামে রাখলে ক্রেতার সংখ্যা বেশি হয়। যদিও উৎসুক সবাই ভিড় করে তবে এটা দেখতেও ভালো লাগে।’ প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, কয়েক বছর ধরেই দেশে পশু কোরবানির সংখ্যা কমছে। গত বছর (২০২৫) ঈদুল আজহায় সারা দেশে ৯১ লাখ পশু কোরবানি হয়েছিল। ২০২৪-এ হয়েছিল ১ কোটি ৪ লাখ পশু কোরবানি অর্থাৎ ২০২৫-এর চেয়ে ১৩ লাখ বেশি। গত বছর ৩৩ লাখ ১০ হাজারের বেশি কোরবানির পশু অবিক্রীত রয়ে যায়। অপরদিকে এ বছর ঈদুল আজহায় দেশে কোরবানির যোগ্য পশুর সংখ্যা ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত বছরের চেয়ে এবার কোরবানি কম হতে পারে। সংখ্যায় যা ৯১ লাখের চেয়েও কম হবে। নাটোর থেকে সানভ্যালী কোরবানির হাটে আসা মোজাম্মেল হক বলেন, ‘দেশে বছরে যত গরু জবাই হয়, তার অর্ধেক হয় কোরবানির ঈদে। আর বাকি অর্ধেক সারা বছর বিয়ে ও দৈনন্দিন মাংসের দোকানে সরবরাহ করা হয়। তাহলে আমরা তো লোকসান দিয়ে গরু বেচব না। তবে গরু আনা নেওয়ায় দুর্ভোগ এড়াতে নামমাত্র লাভ হলেও তা বিক্রি করে দেই।’ খামারি ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত কয়েক বছরের মতো এবারও ছোট ও মাঝারি আকারের গরুর চাহিদা সবচেয়ে বেশি। যে হাটগুলো বসছে সেখানে ছোট ও মাঝারি আকারের গরু বেশি। ছোট গরু হলেও লাখ টাকার নিচে তেমন গরু নেই। চার থেকে সাড়ে চার মণ মাংস হবে এমন গরুর দাম দেড় লাখ টাকার ওপর হাঁকছেন বিক্রেতারা।