সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধন

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও জাতীয় সংগীত অবমাননাকারীদের দায়মুক্তি

ডেস্ক রিপোর্ট
  ২২ মে ২০২৬, ১১:৩২

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, জাতির পিতা, জাতীয় সংগীত বা জাতীয় পতাকার বিরুদ্ধে কোনও প্রকার প্রোপাগান্ডা ও প্রচারণা চালানো বা মদদ দেওয়ার সব মামলা বাতিল করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, এসব অপরাধে আদালতে যদি কোনও ব্যক্তির দণ্ড বা জরিমানা হয়ে থাকে সেগুলোরও দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে পাস হওয়া সাইবার সুরক্ষা আইনে এসব মামলা বতিলসহ অপরাধীদের দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
গত ১০ এপ্রিল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ‘সাইবার সুরক্ষা আইন-২০২৬’ বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা ‘সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ-২০২৫’ রহিত করে এই নতুন আইন পুনঃপ্রণয়ন করা হয়েছে। এই আইনের বিলে ২০২৩ সালের সাইবার নিরাপত্তা আইন রহিত করা হয়। 
এর আগে, ২০১৮ সালের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংশোধন ও রহিত করে ২০২৩ সালের সাইবার নিরাপত্তা আইন পাস করেছিল তৎকালীন আওয়ামী সরকার। তবে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন রহিত হওয়ার আগে দায়ের করা মামলা চলমান রাখা হয়েছিল। কিন্তু, ২০২৬ সালের সাইবার সুরক্ষা আইনে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের কয়েকটি ধারার চলমান মামলা ও নিষ্পতি হওয়া মামলার রায় বাতিল করা হয়েছে। একইভাবে, ২০২৩ সালের সাইবার নিরাপত্তা আইনের কয়েকটি ধারার চলমান মামলা ও নিষ্পতি হওয়া মামলার রায় বাতিল করা হয় ২০২৬ সালের নতুন আইনে।
২০২৬ সালে জাতীয় সংসদে পাস হওয়ার সাইবার সুরক্ষা আইনের ৫০ ধারায় ‘২০২৩ সালের ৩৯ নম্বর আইনের রহিতকরণ ও হেফাজত’ সংক্রান্ত উপধারা-৫ এ বলা হয়, ২০১৮ সালের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২১, ২৪, ২৫, ২৬, ২৭, ২৮ ও ২৯ ধারাগুলোর বর্ণিত অপরাধ সংঘটন ও সহায়তার অপরাধে কোনও আদালত বা ট্রাইব্যুনালে নিষ্পন্নাধীন কোনও মামলা বা অন্যান্য কার্যধারা অথবা কোনও পুলিশ অফিসার বা অন্য কোনও কর্তৃপক্ষের নিকট তদন্তাধীন মামলা বা কার্যক্রম বাতিল হবে এবং এ বিষয়ে আর কোনও কার্যক্রম গ্রহণ করা যাবে না এবং উক্ত ধারাগুলোর অধীন কোনও আদালত বা ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক প্রদত্ত দণ্ড ও জরিমানা বাতিল বলে গণ্য হবে।
‘মুক্তিযুদ্ধ’, ‘জাতির পিতা’, ‘জাতীয় সংগীত’ অবমানাকারীদের শাস্তি মাফ
২০১৮ সালের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২১ ধারার উপধারা-১ -এ বলা আছে, ‘যদি কোনও ব্যক্তি ডিজিটাল মাধ্যমে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, জাতির পিতা, জাতীয় সংগীত বা জাতীয় পতাকার বিরুদ্ধে কোনও প্রকার প্রপাগান্ডা ও প্রচারণা চালান বা তাতে মদদ প্রদান করেন, তা হলে ওই ব্যক্তির অনুরূপ কার্য হবে একটি অপরাধ।’
আইনের ২১ ধারার দুই উপধারায় বলা হয়, যদি কোনও ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর অধীন কোনও অপরাধ সংঘটন করেন, তা হলে তিনি অনধিক ১০ বছরর কারাদণ্ডে বা অনধিক ১ কোটি টাকা অর্থদণ্ডে বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
আইনের ২১ ধারার তিন উপধারায় বলা আছে, যদি কোনও ব্যক্তি উপধারা (১) এ উল্লিখিত অপরাধ দ্বিতীয় বার বা পুনঃপুন সংঘটন করেন, তাহলে তিনি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে বা তিন কোটি টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
২০১৮ সালের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটি ২০২৩ সালে সংশোধন ও রহিত করে সাইবার নিরাপত্তা আইন-২০২৩ করা হয়েছিল। ২০২৬ সালের সাইবার সুরক্ষা আইনের ৫০ ধারায় ২০২৩ সালের সাইবার নিরাপত্তা আইনটি রহিত করা হয়। তবে আইনটির ১৭, ১৮, ১৯, ২০, ২২, ২৩, ৩০, ৩২ এবং ৩৫ ধারা রহিত করা হয়নি।
সাইবার নিরাপত্তা আইন রহিত ও হেফাজত সংক্রান্ত ২০২৬ সালের সাইবার সুরক্ষা আইনের ৫০ ধারায় বলা হয়, রহিত করার আগে ওই আইনের অধীন অনিষ্পন্ন মামলা, মামলার আদেশ, রায় বা শাস্তির বিরুদ্ধে আপিল পরিচালিত ও নিষ্পত্তি হবে, যেন আইন রহিত করা হয়নি।
ফলে ২০১৮ সালের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অধীনে অনেক মামলা চলমান রয়েছে। অপরদিকে, চলমান মামলাগুলোর মধ্যে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২১, ২৪, ২৫, ২৬, ২৭, ২৮ ও ২৯ ধারাগুলোর মামলা ও আদালতের রায় বাতিল করা হয় ২০২৬ সালের সাইবার সুরক্ষা আইনে।
রাষ্ট্রীয় অখণ্ডতা, নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করার মামলাগুলোও বাতিল
২০২৬ সালের সাইবার সুরক্ষা আইনের ৫০ ধারার ৫ উপধারায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৭ ধারা বাতিল করা হয়। ফলে রাষ্ট্রীয় অখণ্ডতা, নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করার মামলাগুলোও বাতিল হয়ে যায়।
২০১৮ সালের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৭ ধারার ১ উপধারায় বলা আছে, যদি কোনও ব্যক্তি—
(ক) রাষ্ট্রীয় অখণ্ডতা, নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করা এবং জনগণ বা এর কোনও অংশের মধ্যে ভয়ভীতি সঞ্চার করার অভিপ্রায়ে কোনও কম্পিউটার বা কম্পিউটার নেটওয়ার্ক বা ইন্টারনেট নেটওয়ার্কে বৈধ প্রবেশে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন বা বে-আইনি প্রবেশ করেন বা করান বা
(খ) কোনও ডিজিটাল ডিভাইসে এইরূপ দূষণ সৃষ্টি করেন বা ম্যালওয়্যার প্রবেশ করান যার ফলে কোনও ব্যক্তির মৃত্যু ঘটে বা গুরুতর জখমপ্রাপ্ত হন বা হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেয় বা
(গ) জনসাধারণের নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের সরবরাহ ও সেবা ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংসসাধন করে বা কোনও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামোর ওপর বিরূপ প্রভাব বিস্তার করে বা
(ঘ) ইচ্ছাকৃতভাবে বা জ্ঞাতসারে কোনও কম্পিউটার, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক, ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক, সংরক্ষিত কোনও তথ্য-উপাত্ত বা কম্পিউটার ডাটাবেইজে প্রবেশ বা অনুপ্রবেশ করেন বা এমন কোনও সংরক্ষিত তথ্য-উপাত্ত বা কম্পিউটার ডাটাবেইজে প্রবেশ করেন যাহা বৈদেশিক কোনও রাষ্ট্রের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বা জনশৃংখলা পরিপন্থি কোনও কাজে ব্যবহৃত হতে পারে অথবা বৈদেশিক কোনও রাষ্ট্র বা কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সুবিধার্থে ব্যবহার করা হতে পারে তা হলে উক্ত ব্যক্তি সাইবার সন্ত্রাসের অপরাধ সংঘটন করেছেন বলে গণ্য হবে।
ডিজিটাল মাধ্যমে প্রতারণার দায়মুক্তি
২০২৬ সালের সাইবার সুরক্ষা আইনের বিলের ৫০ ধারার ৫ উপধারায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৪ ধারা বাতিল করা হয়। ফলে ডিজিটাল মাধ্যমে প্রতারণার অপরাধের দায়মুক্তি পায় অপরাধীরা।
২০১৮ সালের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৪ এর ১ উপধারায় বলা আছে, যদি কোনও ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে বা জ্ঞাতসারে কোনও কম্পিউটার, কম্পিউটার প্রোগ্রাম, কম্পিউটার সিস্টেম, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক, কোনও ডিজিটাল ডিভাইস, ডিজিটাল সিস্টেম বা ডিজিটাল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে-
ক) প্রতারণা করবার বা ঠকাবার উদ্দেশ্যে অপর কোনও ব্যক্তির পরিচয় ধারণ করেন, বা
খ) অন্যকোনও ব্যক্তির ব্যক্তিগত কোনও তথ্য নিজের বলে প্রদর্শন করেন, 
গ) উদ্দেশ্যমূলকভাবে জালিয়াতির মাধ্যমে কোনও জীবিত বা মৃত ব্যক্তির ব্যক্তিসত্তা নিম্নবর্ণিত উদ্দেশ্যে নিজের বলে ধারণ করেন।
অ) নিজের বা অপর কোনও ব্যক্তির সুবিধা লাভ করা বা করিয়ে দেওয়া,
(আ) কোনও সম্পত্তি বা সম্পত্তির স্বার্থ প্রাপ্তি,
(ই) অপর কোনও ব্যক্তি বা ব্যক্তিসত্তার রূপ ধারণ করে কোনও ব্যক্তি বা ব্যক্তিসত্তার ক্ষতিসাধন, তা হলে উক্ত ব্যক্তির অনুরূপ কার্য হইবে একটি অপরাধ।
আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটানোর অপরাধের দায়মুক্তি
২০১৮ সালের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের আক্রমণাত্মক, মিথ্যা বা ভীতি প্রদর্শক, তথ্য-উপাত্ত প্রেরণ, প্রকাশ, ইত্যাদি সংক্রান্ত ২৫ ধারা, অনুমতি ব্যতীত পরিচিতি তথ্য সংগ্রহ, ব্যবহার, ইত্যাদির দণ্ড সংক্রান্ত ২৬ ধারা, সাইবার সন্ত্রাসী কার্য সংঘটনের অপরাধ ও দণ্ড সংক্রান্ত ২৭ ধারা, ওয়েবসাইট বা কোনও ইলেকট্রনিক বিন্যাসে ধর্মীয় মূল্যবোধ বা অনুভূতিতে আঘাত করে এমন কোনও তথ্য প্রকাশ, সম্প্রচার, ইত্যাদি সংক্রান্ত ২৮ ধারা, মানহানিকর তথ্য প্রকাশ, প্রচার, ইত্যাদি সংক্রান্ত ২৯ ধারা এবং আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটানো, ইত্যাদির অপরাধ ও দণ্ড সংক্রান্ত ৩১ ধারার মামলা বাতিল করা হয়েছে। একইসঙ্গে এসব ধারায় মামলায় আদলতের আদেশ রায় বাতিল করা হয়েছে নতুন সাইবার সুরক্ষা আইনের ৫০ ধারায়।
২০২৩ সালের আইনের মুক্তিযুদ্ধ সংক্রান্ত ধারাও বাতিল
২০২৩ সালের সাইবার নিরাপত্তা আইনের বেশ কিছু ধারা রহিত করা না হলেও মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় সংগীত বা জাতীয় পতাকা সম্পর্কে বিদ্বেষ, বিভ্রান্তি ও কুৎসামূলক প্রচারণার দণ্ড সংক্রান্ত ২১ ধারা বাতিল করা হয়েছে।
একইভাবে পরিচয় প্রতারণা বা ছদ্মবেশ ধারণ সংক্রান্ত ২৪ ধারা, আক্রমণাত্মক, মিথ্যা বা ভীতি প্রদর্শক, তথ্য-উপাত্ত প্রেরণ, প্রকাশ, ইত্যাদি সংক্রান্ত ২৫ ধারা, অনুমতি ব্যতীত পরিচিতি তথ্য সংগ্রহ, ব্যবহার, ইত্যাদির দণ্ড সংক্রান্ত ২৬ ধারা, সাইবার সন্ত্রাসী কার্য সংঘটনের অপরাধ ও দণ্ড সংক্রান্ত ২৭ ধারা, ওয়েবসাইট বা কোনও ইলেকট্রনিক বিন্যাসে ধর্মীয় মূল্যবোধ বা অনুভূতিতে আঘাত করে এইরুপ কোনও তথ্য প্রকাশ, সম্প্রচার, ইত্যাদি সংক্রান্ত ২৮ ধারা মানহানিকর তথ্য প্রকাশ, প্রচার, ইত্যাদি সংক্রান্ত ২৯ ধারার মামলা ও অপরাধ বাতিল করা হয়েছে।  
কোম্পানির অপরাধের ধারা রহিত করা হয়নি
২০২৩ সালের সাইবার নিরাপত্তা আইন রহিত করা হলেও কোম্পানির অপরাধ সংঘটন সংক্রান্ত ৩৫ ধারা রহিত করা হয়নি ২০২৬ সালের সাইবার সুরক্ষা আইনে। এছাড়া, ২০২৩ সালের সাইবার নিরাপত্তা আইনের গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোতে বেআইনি প্রবেশ সংক্রান্ত ১৭ ধারা, কম্পিউটার, ডিজিটাল ডিভাইস, কম্পিউটার সিস্টেম, ইত্যাদিতে বে-আইনি প্রবেশ ও দণ্ড সংক্রান্ত ১৮ ধারা, কম্পিউটার, কম্পিউটার সিস্টেম, ইত্যাদির ক্ষতিসাধন ও দণ্ড সংক্রান্ত ১৯ ধারা, কম্পিউটার সোর্স কোড পরিবর্তন সংক্রান্ত অপরাধ ও দণ্ড সংক্রান্ত ২০ ধারা, ডিজিটাল বা ইলেকট্রনিক জালিয়াতি সংক্রান্ত ২২ ধারা, ডিজিটাল বা ইলেকট্রনিক প্রতারণা সংক্রান্ত ২৩ ধারা, আইনানুগ কতৃত্ব বহির্ভূত ই-ট্রানজেকশনের অপরাধ ও দণ্ড সংক্রান্ত্র ৩০ ধারা, হ্যাকিং সংক্রান্ত অপরাধ ও দণ্ড সংক্রান্ত ৩২ ধারা এবং কোম্পানি কর্তৃক অপরাধ সংঘটন সংক্রান্ত ৩৫ ধারা রহিত করা হয়নি।
সংশ্লিষ্টরা যা বলছেন
সাইবার সুরক্ষা আইনের ৫০ ধরার বিষয়ে জানতে চাইলে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. বাহাউদ্দিন ইমরান বলেন, ২০১৮ সালের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটি সংশোধন করে ২০২৩ সালের সাইবার নিরাপত্তা আইন করা হয়েছিল। তবে আইন রহিত হলেও আইনের অধীনে পূর্ববর্তী মামলাগুলো চলমান রাখা হয়েছিল। নতুন এই আইনের মাধ্যমে ২০২৩ সালের সাইবার নিরাপত্তা আইন রহিত ও হেফাজত করা হয়। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২১ ধারার মামলা ও দণ্ড জরিমানা বাতিলের কারণে ডিজিটাল মাধ্যমে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, জাতির পিতা, জাতীয় সংগীত বা জাতীয় পতাকার বিরুদ্ধে কোনও প্রকার প্রোপাগান্ডা ও প্রচারণা চালানো বা মদদ দেওয়ার অভিযোগের মামলাগুলো বাতিল করা হলো। যদি কারও দণ্ড হয়ে থাকে তারও অপরাধের দায় থেকে মুক্তি পাবে।
জানতে চাইলে অবসরে যাওয়া পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা  বলেন, একটি বিশেষ গোষ্ঠীকে সন্তুষ্ট করতে এবং অপরাধীদের দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে সাইবার সুরক্ষা আইনে। এতে কাকে সন্তুষ্ট করা হয়েছে তা সবাই জানেন।
মুক্তিযুদ্ধ, জাতীয় পতাকা অবমাননাসংক্রান্ত মামলা ও দণ্ড থেকে দায়মুক্তি দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন তুলে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জে আই খান পান্না বলেন, ‘এটা আমারও প্রশ্ন। দেশটা কি রাজাকারদের হাতে গেছে? রাজাকারের বাচ্চারা তো বলে, জাতীয় সংগীত পরিবর্তন হওয়া দরকার।’
তিনি বলেন, ‘সাইবার সিকিউরিটি আইন কীসের জন্য? কার নিরাপত্তার জন্য? তথ্য গোপন করার দরকার কী? গ্রাহকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তো মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত। কিন্তু উল্টো যদি এটি জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে সেটি গণবিরোধী আইন হয়ে দাঁড়ায়।’
জে আই খান পান্না আরও বলেন, আমি কোনও সময়ই সাইবার নিরাপত্তা আইনের পক্ষে ছিলাম না। শুধু কিছু ক্ষেত্রে সাইবার নিরাপত্তা প্রয়োজন। কেউ কারও সম্পর্কে অশালীন উক্তি করলে সেটির প্রতিকার অন্য আইনেও সম্ভব। মানহানি মামলার ব্যবস্থাও আছে। সাইবার নিরাপত্তার নামে যেন ব্ল্যাকমেইলিং না হয়, সেটি নিশ্চিত করতে হবে। বিদেশে যেভাবে সাইবার আইন রয়েছে, সেভাবেই হওয়া উচিত। মূলত রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী ও সাংবাদিকদের স্বাধীনতা হরণের একটি পদ্ধতিতে পরিণত হয়েছিল এসব আইন।
তিনি বলেন, আইনে যা খুশি রাখা হোক, কিন্তু তা জামিনযোগ্য হতে হবে। এমন অবস্থা হওয়া উচিত নয়, যেখানে টান দিলে ইউনূস কেন, ইউনূসের বাবাকেও হাজির করা যায়।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ওপর আঘাতের অভিযোগ তুলে জে আই খান পান্না বলেন, এদেশে যারা মুক্তিযুদ্ধের ওপর আঘাত করে, ৭১-এর চেতনার ওপর আঘাত করে, ৩২ নম্বরের বাড়ি ভাঙে—তারা কোন স্বাধীনতা নিয়ে এসেছে, সেটাও দেখতে হবে। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ২৫ মার্চ শুরু করেছিল, কিন্তু শেষ করেছি আমরা।
সূ্ত্র: বাংলাট্রিবিউন