
চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়া থানা এলাকায় এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। ভবন ঘেরাওয়ের পর অভিযুক্ত আসামিকে পুলিশের হাত থেকে ছিনিয়ে নিতে বিক্ষুব্ধ জনতা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছে। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের ছোড়া গুলিতে দুই সংবাদকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিকেল ৫টার দিকে বাকলিয়ার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান ঘাটা আবু জাফর রোড এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। রাত পর্যন্ত উত্তেজিত জনতা রাস্তায় অবস্থান নিয়ে পুলিশের গাড়ি আটকে রাখে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চেয়ারম্যান ঘাটা এলাকার একটি ডেকোরেশনের দোকানের কর্মচারী চার বছরের এক শিশুকে দোকানে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে অভিযুক্ত যুবক যে ভবনে লুকিয়ে ছিল, সেটি ঘেরাও করে বিক্ষোভ শুরু করেন।
খবর পেয়ে বাকলিয়া থানা পুলিশ এবং সিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। শুরুতে বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশকে ভবনে ঢুকতে বাধা দিলেও পরে পুলিশ অভিযুক্ত ডেকোরেশন কর্মচারীকে আটক করতে সক্ষম হয়। তবে তাকে থানায় নিয়ে আসার জন্য পুলিশের গাড়িতে তোলা হলে উত্তেজিত জনতা চারপাশ থেকে গাড়ি ঘেরাও করে পথ আটকে দেয়।
এ ঘটনার শিকার শিশুটির এক আত্মীয় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমরা ধর্ষকের ফাঁসি চাই। ওকে পুলিশের হাতে দেব না, আমাদের হাতে তুলে দিতে হবে।"
জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এক পর্যায়ে পুলিশ লাঠিচার্জ ও ফাঁকা গুলি ছোড়ে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে জনতাও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে এলাকায় দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) দক্ষিণ বিভাগের উপকমিশনার হোসেইন মোহাম্মদ কবির ভুঁইয়া বলেন, "খবর পাওয়ার পরপরই আমরা ঘটনাস্থলে যাই। শিশুটিকে উদ্ধার করে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) পাঠানো হয়েছে। আসামিকে আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হবে—এমন আশ্বাস দেওয়ার পরও উত্তেজিত জনতা আইন নিজেদের হাতে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করে এবং পুলিশের গাড়ি আটকে দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে অ্যাকশনে যেতে হয়েছে।"
উদ্ভূত পরিস্থিতির সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে দুই গণমাধ্যমকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন— 'চট্টগ্রাম প্রতিদিন' এর সাংবাদিক মামুন আবদুল্লাহ ও নোবেল হাসান।
চট্টগ্রাম প্রতিদিনের প্রকাশক আয়ান শর্মা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাস্থল থেকে সরাসরি সম্প্রচার (লাইভ) করার সময় পুলিশের গুলিতে মামুন কোমরে এবং নোবেল হাত ও পায়ে গুলিবিদ্ধ হন। তাদের উদ্ধার করে প্রথমে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বর্তমানে বাকলিয়া এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি অত্যন্ত থমথমে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকায় যানবাহন চলাচলও সাময়িকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।