বটমূলে কবিতার সুর

মির্জা ফখরুলের পথেই হাঁটলেন ছোট ভাই মির্জা ফয়সাল আমিন

ডেস্ক রিপোর্ট
  ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ২৩:৪২

রাজনীতির ময়দানে তারা একে অপরের পরিপূরক হতে পারেন, কিন্তু সংস্কৃতির আঙিনায় যে তাদের রক্তে একই ধারা প্রবাহিত, তা আরও একবার প্রমাণিত হলো ঠাকুরগাঁওয়ের শান্ত-স্নিগ্ধ বটমূলে।
বিএনপির মহাসচিব ও এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেলেন তার ছোট ভাই ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিন।
বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখে রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে কবিতার ছন্দে ঠাকুরগাঁওবাসীকে মুগ্ধ করলেন তিনি।

রাজনীতি নয়, হৃদয়ে এখন শুধুই কবিতা
ঠাকুরগাঁওয়ের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের কেন্দ্রবিন্দু ‘বটমূল’। নববর্ষের ভোরে যখন ভৈরব রাগে নতুন বছরকে বরণ করে নিচ্ছিল শহরবাসী, ঠিক তখনই মঞ্চে দাঁড়ালেন মির্জা ফয়সাল আমিন। তবে হাতে কোনো রাজনৈতিক লিফলেট বা স্লোগান নয়, ছিল প্রিয় কবির কবিতার পঙক্তি। তার দরাজ কণ্ঠ আর আবৃত্তির পরিশীলিত ঢং মুহূর্তেই উপস্থিত দর্শকদের বিমোহিত করে।
উপস্থিত জনতার মতে, তার বাচনভঙ্গি আর আবেগ অনেককেই মনে করিয়ে দিচ্ছিল বড় ভাই মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কথা, যিনি নিজেও রাজনীতির পাশাপাশি সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চায় সমান পারদর্শী।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মির্জা ফয়সাল আমিনের আবৃত্তির ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়তে খুব বেশি সময় নেয়নি। ভিডিওটির মন্তব্যের ঘরে নেটিজেনরা ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন। কেউ লিখেছেন: ‘রাজনীতির বাইরেও যে একটা সুন্দর পৃথিবী আছে, ফয়সাল আমিনের কবিতা তা মনে করিয়ে দিল।’
আবার কেউ বলছেন, ‘বড় ভাইয়ের সুযোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে নিজের সাংস্কৃতিক রুচির পরিচয় দিলেন তিনি’।

এক অবিচ্ছেদ্য সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার
মির্জা পরিবার ঠাকুরগাঁওয়ের রাজনীতি ও সংস্কৃতির ইতিহাসে এক অবিচ্ছেদ্য নাম। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যেমন রাজপথ কাঁপানো বক্তৃতার পাশাপাশি রবীন্দ্রচর্চা ও সাহিত্যের অনুরাগী; ছোট ভাই ফয়সাল আমিনও সেই একই ধ্রুপদী ধারার অনুসারী।
বটমূলের এ বিশেষ অনুষ্ঠান সম্পর্কে স্থানীয় সাংস্কৃতিক কর্মী গোলাম সারোয়ার সম্রাট জানান, আমরা আজ কোনো রাজনৈতিক নেতাকে দেখিনি, দেখেছি একজন শিল্পমনা মানুষকে। রাজনীতির মেরুকরণের যুগে এমন দৃশ্য সত্যিই বিরল এবং প্রশংসনীয়।
বছরের প্রথম দিনে ঠাকুরগাঁওয়ের বটমূল সাক্ষী থাকল এক অনন্য মুহূর্তের, যেখানে রাজনীতির কঠোরতা ছাপিয়ে জয় হলো শিল্পের। মির্জা ফয়সাল আমিনের এ সাংস্কৃতিক উপস্থিতি জেলার সাধারণ মানুষের কাছে এক ভিন্ন বার্তা পৌঁছে দিয়েছে।