যেসব ইস্যুতে প্রথম অধিবেশনেই উত্তপ্ত হতে পারে জাতীয় সংসদ

ডেস্ক রিপোর্ট
  ১০ মার্চ ২০২৬, ২২:৫১

গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে বহুল কাঙ্ক্ষিত জাতীয় নির্বাচনের পর ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন আগামী বৃহস্পতিবার বসতে যাচ্ছে। বেলা ১১টায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে অধিবেশন বসার কথা রয়েছে। 
প্রথম দিনই নতুন সংসদের স্পিকার নির্বাচন করা হবে। সংসদ উপনেতা এবং ডেপুটি স্পিকার কে হবেন, তাও জানা যাবে এদিনই। অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনামলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের ভাগ্যও এই অধিবেশনে নির্ধারিত হবে। সংবিধান অনুযায়ী সংসদের প্রথম অধিবেশন বসার ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে অধ্যাদেশগুলোকে আইনে রূপান্তরের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তা না হলে এগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এবারের সংসদ আগের গতানুগতিক কোনো সংসদের মতো হবে না। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর সংস্কারের যে জন-আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে, তা বাস্তবায়নের ঐতিহাসিক দায়িত্ব পড়েছে এই সংসদের ওপর। বিশেষ করে জুলাই জাতীয় সনদের বাস্তবায়নসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নিষ্পত্তি হবে এখানে। 
রাজনৈতিক দলগুলো বিদায়ি অন্তর্বর্তী সরকার প্রণীত জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছে। এই সনদ সংসদে পাস করানোর দায় রয়েছে প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক দলগুলোর। বিশেষ করে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ ইস্যুতে প্রথম অধিবেশনেই উত্তপ্ত হতে পারে জাতীয় সংসদ। তবে এই উত্তাপ সংকটে রূপ নেয় কিনা, তা দেখার জন্য সবার দৃষ্টি এখন সংসদ অধিবেশনের দিকে। নির্বাচনের পর সরকারি দলের নির্বাচিতরা শুধু সংসদ-সদস্য হিসাবে শপথ নিয়েছেন। আর বিরোধী দলের সদস্যরা নিয়েছেন দুটি শপথ। একটি সংসদ-সদস্য হিসাবে এবং অন্যটি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসাবে। বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা বলছেন, একই দেশে দুই নিয়ম চলতে পারে না। তাই সবার অপেক্ষা অধিবেশন শুরুর মাহেন্দ্রক্ষণের দিকে; যার মধ্য দিয়ে মাঠের রাজনীতি গড়াবে জাতীয় সংসদে। একই সঙ্গে প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে সংসদ।