না ফেরার দেশে অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খান, জানাজা সম্পন্ন

ডেস্ক রিপোর্ট
  ০৯ মার্চ ২০২৬, ২৩:০৭

বাংলাদেশে সাংবাদিকতা শিক্ষার অন্যতম পথিকৃৎ ও সাখাওয়াত আলী খান ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। রোববার রাতে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর।
সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও শুভানুধ্যায়ীরা অংশ নেন। উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়াজ আহমেদ খান এবং গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক অধ্যাপক গোলাম রহমানসহ অনেকে।
জানাজা শেষে উপাচার্য নিয়াজ আহমেদ খান বলেন, অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খানের অবদান ও স্মৃতি বিশ্ববিদ্যালয় সবসময় জাগ্রত রাখতে চায়।
তার মরদেহ নরসিংদীর শিবপুর উপজেলায় নেওয়া হবে। সেখানে নিজ গ্রাম ধানুয়ায় তাকে দাফন করা হবে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, কিছুদিন আগে তিনি স্ট্রোক করেন। কয়েক দিন হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর তাকে বাসায় নেওয়া হয়েছিল। তবে রোববার রাতে আবার অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খান ২০০৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে অবসরে যান। পরে তিনি সেখানে পাঁচ বছর সংখ্যাতিরিক্ত (সুপার নিউমারারি) অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি ওই বিভাগের অনারারি প্রফেসর ছিলেন।
শিক্ষাজীবনের পাশাপাশি তিনি দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সাংবাদিকতা বিভাগের খণ্ডকালীন উপদেষ্টা এবং ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশর সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
১৯৪১ সালে নরসিংদীর শিবপুর উপজেলায় এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে তার জন্ম। শিক্ষকতা পেশায় যোগ দেওয়ার আগে প্রায় এক দশক তিনি দেশের বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে সাংবাদিকতা করেছেন।
অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খান ছিলেন কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং সোসাইটি ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্টের চেয়ারম্যান। এছাড়া তিনি একাধিকবার বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের সদস্য এবং প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা বোর্ডের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
গবেষক হিসেবেও তিনি সুপরিচিত ছিলেন। ১৫টি দেশের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সেমিনারে তিনি মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন ইলিনয় ইউনিভার্সিটিতে ভিজিটিং স্কলার হিসেবে কাজ করেছেন। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন জার্নালে তার ৩০টির বেশি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। তার গবেষণার অন্যতম বিষয় ছিল সাংবাদিকতা ও রাজনীতির মিথস্ক্রিয়া।
ব্যক্তিজীবনে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে, এক মেয়ে, দুই নাতিসহ অসংখ্য ছাত্রছাত্রী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।