জাতীয় পাট দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন

বর্তমান সরকারের হাত ধরে পাট খাতে সোনালি দিন ফিরবে

ডেস্ক রিপোর্ট
  ০৬ মার্চ ২০২৬, ১৫:৩৮

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন, আমরা বিশ্বাস করি, বর্তমান সরকারের হাত ধরে পাট খাতে সোনালি দিন ফিরে আসবে, সৃষ্টি হবে নতুন নতুন কর্মসংস্থান, বাংলাদেশ হবে তন্তুর এক অনন্য নেতৃত্বদানকারী দেশ।
শুক্রবার (৬ মার্চ) সকালে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জাতীয় পাট দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
হাজারো মানুষের প্রাণের বিনিময়ে  বাংলাদেশ গণতন্ত্রের ধারায় ফিরেছে মন্তব্য করে রাষ্ট্রপতি বলেন,  সব শহীদের আকাঙ্ক্ষায় বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত করতে হলে, আমাদের জ্ঞান-বিজ্ঞান-প্রযুক্তিতে আরও সমৃদ্ধ হতে হবে। অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জন করতে হবে। গড়ে তুলতে হবে একটি স্বনির্ভর বাংলাদেশ।
চাষীদের পাট চাষের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আপনারা উন্নত প্রযুক্তির উচ্চ ফলনশীল চাষ পদ্ধতি অনুসরণ করুন।
উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে  মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, বাজারের চাহিদা অনুযায়ী নিত্য নতুন আধুনিক মানসম্মত ও ব্যবহার উপযোগী স্বাস্থ্য পণ্য উদ্ভাবনে এগিয়ে আসুন। অল্পমূল্যে পাটের ব্যাগ তৈরি ও বিপণন করুন। সৃজনশীল তরুণ প্রজন্মের প্রতি আহ্বান থাকবে, স্টার্টআপ ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে মেড ইন বাংলাদেশ ব্যান্ডিং ও বৈশ্বিক ইকমার্স প্লাটফর্মে যুক্ত হয়ে নতুন উন্মোচন করুন। 
পাট বাংলাদেশের সমাজ, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও গৌরবের অংশ মন্তব্য করে রাষ্ট্রপতি বলেন,  পাট হলো অর্থনৈতিক উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। পাট একাধারে পণ্য, আবার শিল্পজাত ও রফতানি পণ্য। বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ দূষণ এবং পলিথিন ও প্লাস্টিকের ব্যাপক ক্ষতিকর প্রভাবের প্রেক্ষাপটে বাস্তবতায় পরিবেশবান্ধব পণ্য হিসেবে পাটের গুরুত্ব বহুগুণ বেড়েছে। বিশ্ব এখন টেকসই ও পরিবেশবান্ধব পণ্যের দিকে ঝুঁকছে। এই পরিবর্তিত বাস্তবতায় পাট ও পাটজাত পণ্য বাংলাদেশের সামনে এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচিত করে দিয়েছে। এই সুবর্ণ সুযোগকে  আমাদের কাজে লাগাতে হবে। 
তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতির সার্বিক সংস্কার ও অঞ্চলভিত্তিক অর্থনীতির ত্রাণ সঞ্চার এবং শিল্প বাণিজ্যের দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি করে ১ কোটি কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা হবে। বর্তমান সরকার ইতোমধ্যে রুগ্ন বন্ধ পাটকলসহ বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান খুলে দিয়ে নতুন কর্মসংস্থান তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সরকার ইতোমধ্যে পাট খাতে প্রযুক্তি সমৃদ্ধ ও আধুনিকীকরণ গবেষণা সম্প্রসারণ, উচ্চ ফলনশীল জাতের পাট উদ্ভাবন, পাটের ব্যবহারে নানান গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে।  
রাষ্ট্রপতি বলেন, বর্তমান কৃষি এবং কৃষকবান্ধব সরকার আগামী পয়লা বৈশাখ অর্থাৎ ১৪ এপ্রিল থেকে পর্যায়ক্রমে কৃষক কার্ড বিতরণ শুরু করবে। কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা ন্যায্য মূল্যে কৃষি উপকরণ, সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা, সাশ্রয়ী মূল্যে কৃষিযন্ত্র ব্যবহারের সুযোগ, সহজ শর্তে কৃষি ঋণ, কৃষি বীমার সুবিধা, ন্যায্য মূল্যে কৃষিপণ্য বিক্রির সুযোগ, কৃষি প্রশিক্ষণ ডিজিটাল প্লাটফর্মের মাধ্যমে আবহাওয়া ও বাজার সংক্রান্ত তথ্যসহ কৃষি সংশ্লিষ্ট তথ্য পেতে সক্ষম হবেন।  সরকারের এসব উদ্যোগের ফলে অর্থনীতি শক্তিশালী হবে।
বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে বাংলাদেশের পাট পণ্যও বাড়তি প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন,  এটি কার্যকরভাবে মোকাবিলা করার লক্ষ্যে দেশের সব পাটকলের উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি, কাঁচাপাটের চাহিদা ও যোগান এবং রফতানি বাজারের চ্যালেঞ্জগুলো অন্তর্ভুক্ত করে আধুনিক কর্মসূচি ও একটি সমন্বিত তথ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা গড়ে তোলা খুবই প্রয়োজন। বিশ্ব বাজারে কাঁচাপাট কিংবা পাটজাত পণ্যের চাহিদার প্রতি লক্ষ্য রেখে সরকার পাট রফতানি বাড়ানোর জন্য সম্ভাব্য সব উদ্যোগ গ্রহণ করবে। মূল্য সংযোজিত পাট পণ্য উৎপাদন ও রফতানি সম্প্রসারণে সরকার অবশ্যই গুরুত্ব দেবে। আমার বিশ্বাস, এ জন্য একটি লক্ষ্যভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হলে ফল পাওয়া যাবে।
মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর পলিথিন ব্যাগ পরিহার করুন। সাশ্রয়ী মূল্যের পাটের ব্যাগ ও পরিবেশবান্ধব পণ্য ব্যবহার করুন।