
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে। পুরোপুরি আমদানিনির্ভর দেশ হিসেবে বাংলাদেশ যে কোনো আন্তর্জাতিক অস্থিরতায় ঝুঁকির মুখে পড়ে। কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমানের মতো প্রধান জ্বালানি সরবরাহকারী দেশগুলোয় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় এলএনজি, অপরিশোধিত ও পরিশোধিত তেলসহ সব প্রধান জ্বালানি উৎস অনিশ্চয়তায় পড়েছে।সরকার ইতোমধ্যেই গ্যাস রেশনিং শুরু করেছে এবং লোডশেডিংয়ের মাধ্যমে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার চাপ কমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। পেট্রোবাংলা ও বিপিসি সূত্রে জানা গেছে, স্পট মার্কেট থেকেও এলএনজি সংগ্রহে এখন কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। দেশব্যাপী ডিজেল, পেট্রল, অকটেন ও জ্বালানি তেলের মজুদ দিন দিন কমছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় জনগণকে সাশ্রয়ী ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছে, যেন সীমিত মজুদ দিয়ে সংকট মোকাবিলা করা যায়।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা দীর্ঘায়িত হলে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে এবং বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতে ভর্তুকি রেকর্ড পরিমাণে বাড়তে পারে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের প্রতিদিনের জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে।
বাংলাদেশ জ¦ালানি তেল, এলএনজি গ্যাস, এমনকি কয়লা আমদানির যেসব উৎস ব্যবহার করে আসছিল, সেগুলোর অধিকাংশই ইরান যুদ্ধের কারণে সংকটে পড়েছে। বিশেষ করে এলএনজি আমদানির নির্ভরযোগ্য উৎস কাতার বাংলাদেশ তেল গ্যাস খনিজসম্পদ করপোরেশনকে (পেট্রোবাংলাকে) ২ মার্চ এক চিঠিতে ইরান যুদ্ধে তাদের আক্রান্তের বিষয় এবং বাধ্য হয়ে এলএনজি উৎপাদন বন্ধের বিষয়টি জানিয়েছে। অর্থাৎ যুদ্ধ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে কাতার থেকে এলএনজিপ্রাপ্তি সহজ হচ্ছে না। এদিকে জ¦ালানি বিভাগ এবং পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা যায়, স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি আমদানির সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে। গতকাল পর্যন্ত সরবরাহকারীদের কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। বিপিসির পক্ষ থেকে জ¦ালানি তেল আমদানি পরিস্থিতি স্বাভাবিক বলা হলেও কার্যত এক ধরনের অনিশ্চয়তায় উদ্বিগ্ন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। তেল এবং গ্যাসের জোগান কমে যাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সরকার কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোয় জোর দিতে যাচ্ছে। কয়লার আমদানিও ব্যয়বহুল এবং নানা ধরনের সংকটের মধ্যে আছে বলে জানা যায়।
সংকট আঁচ করতে পেরে গতকাল বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জরুরি সংবাদ সম্মেলন করেন। তিনি বৈশ্বিক অস্থিরতায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সম্ভাব্য সাময়িক সংকট মোকাবিলায় সরকারের প্রস্তুতি তুলে ধরে জনগণের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।
মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের মাত্র চার দিনের মাথায় ইরান যুদ্ধের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বাংলাদেশে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি ও কাতারে ইরানের হামলার কারণে দেশ দুটি তাদের এলএনজি উৎপাদন এবং তেল উত্তোলন ও শোধনের কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। বাংলাদেশ এলএনজি, অপরিশোধিত ও পরিশোধিত জ্বালানি তেল, তরলিকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) প্রায় সব জ্বালানির সিংহভাগই আনা হয় মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় দেশ কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমান থেকে। স্পট মার্কেটেও এলএনজি পাওয়া যাচ্ছে না।
বাংলাদেশ জ্বালানির সাশ্রয়ী ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছে। এরই মধ্যে গ্যাস সরবরাহে রেশনিং শুরু করেছে। আগামী সপ্তাহ থেকে এলাকাভিত্তিক লোডশেডিং করে বিদ্যুতের লোড ম্যানেজমেন্ট শুরু হচ্ছে। পাশাপাশি সরকারের পক্ষ থেকে জনগণকেও পরিস্থিতি বিবেচনায় সাশ্রয়ী ব্যবহারের আহ্বান জানানো হয়েছে।
গতকাল মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সভাপতিত্বে জরুরি পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। পর্যালোচনা সভায় সাশ্রয়ী ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সংকট মোকাবিলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সভায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের সচিব, বিপিসির চেয়ারম্যান, পিডিবির চেয়ারম্যানসহ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পর্যালোচনা সভা শেষে সংবাদ সম্মেলন করে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, বর্তমান সংকট ঈদের ছুটি পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। তবে সাশ্রয়ী ব্যবস্থাপনা করা গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন। ছুটির সময়ে শিল্প-কারখানার কার্যক্রম কমে গেলে বিদ্যুতের চাহিদাও কমবে, ফলে চাপ কিছুটা হ্রাস পাবে। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অস্থিরতায় জ্বালানি সংকটের প্রভাবে জ্বালানি বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে।
সম্প্রতি ডিজেলের চাহিদা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকার বিষয়টি খতিয়ে দেখছে উল্লেখ করে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, হঠাৎ ডিজেল সেল বেড়ে গেছে। তথ্য অনুযায়ী, সীমান্তের ওপারে দাম বেশি থাকায় কিছু পরিমাণ ডিজেল পাচার হয়ে যেতে পারে। এজন্য সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সীমান্তবর্তী জেলাগুলোর জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক করা হয়েছে। প্রয়োজনে সীমান্ত অঞ্চলে ডিজেল বিক্রিতে রেশনিং ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে কিছু এলাকায় বিক্রি নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ শুরু হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, এটি শুধু বাংলাদেশের সমস্যা নয়; বৈশ্বিক বাজারে সবাই এখন জ্বালানি সংগ্রহে প্রতিযোগিতায় আছে। আমরা স্পট পারচেজেও গেছি, তবে প্রত্যাশিত সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। তাই যতটুকু মজুদ আছে, তা সাশ্রয় করে ব্যবহারের বিকল্প নেই। জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির সম্ভাবনা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি সরকার নিয়মিত পর্যালোচনা করছে। প্রতিদিন প্রধানমন্ত্রীকে বৈশ্বিক ও দেশি জ্বালানি পরিস্থিতি সম্পর্কে ব্রিফ করা হচ্ছে। তবে আপাতত বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা নেই বলেই তার মূল্যায়ন।
মন্ত্রী বলেন, ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্টই এখন প্রধান কাজ। আমাদের হাতে যে সরবরাহ আছে, তাকে সাশ্রয়ীভাবে ব্যয় করেই পরিস্থিতি সামাল দিতে হবে। সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে শিগগির মন্ত্রণালয় থেকে বিস্তারিত জানাতে প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে বলেও তিনি জানান।
এদিকে, গতকাল থেকে গ্যাসে রেশনিং কার্যক্রম শুরুর কথা জানিয়েছেন পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. এরফানুল হক। পেট্রোবাংলা চেয়ারম্যান বলেন, আজকে (বুধবার) থেকেই সরবরাহ রেশনিং করার আদেশ দেওয়া হয়েছে। হয়তো একটি সার কারখানা থাকতে পারে। গ্যাস সংকটের কারণে বিদ্যুতে সরবরাহ কমানোর পাশাপাশি, সার কারখানা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কেনার জন্য ৩ মার্চ দরপত্র আহ্বান করা হলেও কোনো দরদাতা পাওয়া যায়নি। ৪ মার্চ আবার দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ৪টি কার্গো ইতোমধ্যেই হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। ১৫ মার্চ এবং ১৮ মার্চের দুটি কার্গো নিয়ে চিন্তায় আছি। আমরা কাতার গ্যাসকে চিঠি দিয়েছি, তারা এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি। তারা ফিরতি চিঠিতে লিখেছে চুক্তির জরুরি অবস্থার শর্ত যুক্ত হতে পারে। এতে আমরা বিকল্প চিন্তাও করতে পারছি না। যে কারণে দৈনিক ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এতে আগামী ৭ দিনে ১৪০০ মিলিয়ন সাশ্রয় হবে।
পেট্রোবাংলার সূত্রে জানা গেছে, সার উৎপাদনে দৈনিক ১৭০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। সেটি পুরোপুরি বন্ধ করার পাশাপাশি বিদ্যুতে ৮৭০ মিলিয়ন থেকে কমিয়ে ৮২০ মিলিয়ন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। জানা গেছে, যেসব জাহাজ ১১ মার্চের মধ্যে বাংলাদেশ পৌঁছার কথা, সেগুলো ইতোমধ্যেই হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। জাহাজগুলো যথাক্রমে ৩, ৫, ৯ এবং ১১ মার্চ দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। হরমুজ অতিক্রম করা ৪ কার্গো এলএনজি দিয়ে ১২ থেকে ১৫ দিনের সরবরাহ সচল রাখা সম্ভব। মার্চে মোট ৯ কার্গো এলএনজি আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে। এরই মধ্যে কাতার থেকে ৬টি ও ২টি অস্ট্রেলিয়া থেকে আসার কথা র
মার্চে ৯টি, এপ্রিলে ১১টি এবং মে মাসে ১১ কার্গো এলএনজি আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে পেট্রোবাংলার। এর মধ্যে ১৯ কার্গো হরমুজ প্রণালি দিয়ে আসার কথা। এক কার্গোতে প্রায় ৩ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস থাকে, যা বাংলাদেশের একদিনের চাহিদার থেকেও কম। দেশি উৎস থেকে পাওয়া কমবেশি ১৭১৪ মিলিয়নের সঙ্গে ৮০০ থেকে ১০০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ দেওয়া হয়। সর্বোচ্চ ১১০০ মিলিয়ন সরবরাহ করার সক্ষমতা রয়েছে মহেশখালীতে অবস্থিত ২টি ভাসমান টার্মিনালের।
জ্বালানি তেল
বাংলাদেশে বছরে জ্বালানি তেলের চাহিদা ৬৫ লাখ মেট্রিক টন। এর প্রায় পুরোটাই আমদানি করা হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম মোটামুটি স্থিতিশীল থাকায় বিপিসি সাম্প্রতিক বছরগুলোয় কয়েক হাজার কোটি টাকা করে মুনাফা করছে। সংস্থাটির মতে, প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ৭২ ডলার অতিক্রম করলেই লোকসান গুনতে হয়। চলতি সপ্তাহে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৬৭ ডলার থেকে গত মঙ্গলবার রাতে ৮৪ ডলারে পৌঁছেছে। গত বছরের ফেব্রুয়ারির চেয়ে যা ২৬ শতাংশ বেশি।
এদিকে গতকাল পর্যন্ত সর্বশেষ তথ্যে জানা গেছে, ডিজেলের মজুদ আছে আর মাত্র ৯ দিনের, অকটেনের মজুত ১৫ দিনের, পেট্রোল ৮ দিনের, ফার্নেস অয়েল ৬০ দিনের, জেট ফুয়েল ৩৬ দিনের। ১৭০ দিনের মজুদ আছে কেরোসিনের। মেরিন ফুয়েলের মজুদ আছে ৪২ দিনের।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে ইতোমধ্যে এলএনজির দাম ৫০ শতাংশ বেড়ে গেছে। যুদ্ধের কারণে এলএনজির পাশাপাশি ক্রুড অয়েলের দামও বেড়েছে। গত মাসের এই সময়ের তুলনায় ২৬ শতাংশ দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ক্রুডের দাম এখন প্রায় ৮৪ ডলার। যুদ্ধ শিগগির শেষ না হলে এই দাম ১০০ ডলার পর্যন্ত যেতে পারে। গ্যাস ও জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে এর প্রভাব সরাসরি পড়বে বিদ্যুতের উৎপাদন খরচে। মধ্যপ্রাচ্যের সংকট দীর্ঘায়িত হলে চলতি অর্থবছরে দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ভর্তুকি রেকর্ড করতে পারে বলে শঙ্কা খাতসংশ্লিষ্টদের।
পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালে ১০৯টি কার্গো আমদানিতে খরচ হয়েছে প্রায় তিন হাজার ৮৭৭ দশমিক ৭৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। আগের বছর ৮৬টি কার্গোর জন্য ব্যয় ছিল তিন হাজার ২২ দশমিক ৩২ মিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে অতিরিক্ত খরচ হয়েছে ৮৫৫ মিলিয়নের বেশি ডলার। চলতি বছর ১১৫টি কার্গো আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় কাতার থেকে ৪০টি ও ওমান থেকে ১৬টি কার্গো আসার কথা। আমদানি বাড়ায় খরচ এমনিতেই বাড়বে।
খাতসংশ্লিস্টরা বলছেন, ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর গড় এলএনজি মূল্য প্রতি এমএমবিটিইউ ১৮.৪৩ ডলারে উঠে যায়, যা ২০২৪ সালে নেমে আসে ১২.৮৪ ডলারে। ২০২৫ সালের জুনে ছিল ১৩.৫২ ডলার এবং ২০২৫ সালের নভেম্বরে দাঁড়ায় ১১.০২ ডলারে। গত জানুয়ারিতে বাংলাদেশ ১২ ডলারে এলএনজি কিনেছিল। দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় এলএনজির দাম পড়ছে ৯ থেকে ১০ ডলার। মধ্যপ্রাচ্য সংকটে এলএনজির দাম ইতোমধ্যে ৫০ শতাংশ বেড়ে গেছে। যুদ্ধ বন্ধ না হলে স্পট মার্কেট থেকে বেশি দামেই এলএনজি কিনতে হবে বাংলাদেশকে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন মনে করেন, সংঘাত দুই সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হলে বেশি দামে এলএনজি কিনতে বাধ্য হবে বাংলাদেশ। এতে আমদানি খরচ বাড়বে, বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ সৃষ্টি হবে এবং ভর্তুকির পরিমাণ আরও বিশাল হবে।
ভর্তুকির পরিমাণ বাড়ছেই
২০২৪-২৫ অর্থবছরে এলএনজি খাতে ভর্তুকি ছিল প্রায় ৯ হাজার কোটি আর ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বরাদ্দ ৬ হাজার কোটি টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি ছিল ৬২ হাজার কোটি টাকা। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে বিদ্যুৎ ভর্তুকি খাতে বরাদ্দ রয়েছে ৩৬ হাজার কোটি টাকা। খাতসংশ্লিষ্টদের আগে ধারণ ছিল, এই ভর্তুকি ৫০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে তা আরও বাড়তে পারে বলে শঙ্কা বিদ্যুৎ বিভাগের।