
পারিবারিক কারণে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির আবেদন করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে অব্যাহতিপত্রে সই করে পুলিশ সদরদফতরে পাঠিয়েছেন তিনি।
নিজেই অব্যাহতির বিষয় নিশ্চিত করেছেন কমিশনার। তিনি বলেন, সরকার এ বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে।
ডিএমপির ৩৮তম পুলিশ কমিশনার হিসেবে ২০২৪ সালের ২১ নভেম্বর দায়িত্বভার গ্রহণ করছিলেন শেখ মো. সাজ্জাত আলী।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২১ নভেম্বর শেখ মো. সাজ্জাত আলীকে ডিএমপি কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী পরিস্থিতিতে পুলিশ বাহিনীকে ঢেলে সাজানোর প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তাকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়।
চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও তাকে দুই বছরের জন্য চুক্তিতে এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর আগে তিনি পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সাজ্জাত আলী বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের ১৯৮৪ ব্যাচের কর্মকর্তা।
আহসান এইচ মনসুরকে সরিয়ে দেওয়া হলো
ব্যাংকিং খাতে সংস্কার কার্যক্রম জোরদার করার প্রেক্ষাপটে নানা আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে আহসান এইচ মনসুরকে। তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে মোস্তাকুর রহমানকে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
ড. মনসুর দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ, তদারকি জোরদার এবং নীতিগত সংস্কারে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। বিশেষ করে দুর্বল ব্যাংকগুলোর পুনর্গঠন, পরিচালনা পর্ষদে পরিবর্তন এবং অভ্যন্তরীণ নজরদারি বাড়ানোর মতো পদক্ষেপে তিনি কঠোর অবস্থান নেন। এতে একদিকে যেমন সংস্কারপন্থিদের সমর্থন পান, অন্যদিকে ব্যাংকিং খাতের একটি অংশের অসন্তোষও তৈরি হয়।
সর্বশেষ, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কয়েকজন কর্মকর্তা গভর্নরকে ‘স্বৈরাচার’ বলে উল্লেখ করার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় তিন কর্মকর্তাকে শোকজ করা হয়। পাশাপাশি প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে কয়েকজন কর্মকর্তার বদলিও ঘটে। বিষয়টি ব্যাংকপাড়ায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
এর মধ্যেই গভর্নর পদে পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত এলো। নতুন গভর্নর হিসেবে নিয়োগ পাওয়া মোস্তাকুর রহমান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম ও নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ার সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে। তার সামনে এখন ব্যাংকিং খাতের চলমান সংস্কার কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বড় চ্যালেঞ্জ থাকবে।