আমরা এমনভাবে এগোবো যেন আমাদের জাতীয় স্বার্থ পূরণ হয়

দ্য হিন্দুকে হুমায়ুন কবির
ডেস্ক রিপোর্ট
  ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০০:১৮


গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তি নবায়নের বিষয়ে বাংলাদেশ ‘জাতীয় স্বার্থ’কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছেন হুমায়ুন কবির। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল–বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান–এর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা। ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গা চুক্তির মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে। ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে ভূমিধস জয় পাওয়ার পর বিএনপি সরকার গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, এবং তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন বলে আলোচনা রয়েছে।
ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু–কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হুমায়ুন কবির বলেন, ভারতকে অতীতের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, ভারতে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা বাংলাদেশের জন্য উদ্বেগের বিষয়। তার মতে, এসব ঘটনা দুই দেশের সম্পর্ক ও জনমতের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
গঙ্গা চুক্তি নবায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি দ্বিপক্ষীয় আলোচনার অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ইস্যু হতে পারে। অতীতে নদীসংক্রান্ত চুক্তিতে ভারতের সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলোর স্বার্থ বিবেচনার কথা বলা হলেও, নতুন সরকার এমন অবস্থান নেবে যা বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ নিশ্চিত করবে।
তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলে গেছে এবং এখন জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্য গড়ে উঠেছে। মতভেদ থাকলেও গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় বিষয়ে সবাই একসঙ্গে কাজ করতে পারবে—এটাই গণ-অভ্যুত্থানের বড় অর্জন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ভারতে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবির বলেন, কট্টর ডানপন্থী বক্তব্য দিয়ে নির্বাচনে জয়ী হওয়ার প্রবণতা উদ্বেগজনক। তার মতে, বাংলাদেশে চরমপন্থী বক্তব্য নির্বাচনে সাফল্য এনে দেয় না; উদাহরণ হিসেবে তিনি জামায়াতের প্রসঙ্গ টানেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভারত এসব চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করতে সক্ষম হবে।
সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর গুলিতে বাংলাদেশি বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনাও একটি স্পর্শকাতর ইস্যু বলে তিনি উল্লেখ করেন। ভারতের মতে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার প্রয়োজনে এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়। তবে এ ধরনের ঘটনা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।
বিএনপির নির্বাচনী জয়ের পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অভিনন্দনবার্তা পাঠিয়েছেন, যা হুমায়ুন কবির স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি জানান, নতুন সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে আঞ্চলিক নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হবে।
সবশেষে তিনি বলেন, ভারতকে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা স্বীকার করতে হবে। তাঁর ভাষায়, শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের অধ্যায় এখন অতীত। তিনি আরও দাবি করেন, লন্ডনে অবস্থানকালে তারেক রহমান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যোগাযোগ জোরদার করেছেন এবং ইউরোপ, পশ্চিম এশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন মহলে সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন।