দক্ষিণ এশিয়া ও বিশ্ব রাজনীতিতে তারেক রহমানের উত্থানের প্রভাব

টাইমের বিশেষ প্রতিবেদন
ডেস্ক রিপোর্ট
  ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২১:৫৬

দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন কাটিয়ে দেশে ফেরার মাত্র সাত সপ্তাহের মাথায় বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন তারেক রহমান। 
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফলে দেখা যায়, তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ৩০০ আসনের জাতীয় সংসদে প্রায় ২০৯টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। 

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর এটিই ছিল দেশের প্রথম সাধারণ নির্বাচন।
নির্বাচনের আগে জানুয়ারির শুরুতে টাইম ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান তার আগামীর পরিকল্পনা তুলে ধরেন। দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম এই অর্থনীতিকে পুনর্গঠন এবং সামাজিক বিভাজন দূর করাকেই তিনি তার প্রধান লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। 
সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আমার প্রথম অগ্রাধিকার হবে আইনের শাসন নিশ্চিত করা, দ্বিতীয়ত আর্থিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং তৃতীয়ত দেশকে ঐক্যবদ্ধ করা। রাজনৈতিক কর্মসূচি যা-ই হোক না কেন, জাতীয় ঐক্য ছাড়া দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়।

ক্ষত নিরাময় ও জাতীয় ঐক্য 
২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবে প্রায় ১৪০০ মানুষের মৃত্যু এবং গত ১৫ বছরের শাসনামলে কয়েক হাজার মানুষের গুম হওয়ার ক্ষত এখনো তাজা। শেখ হাসিনার আমলে দলীয়করণ হওয়া আদালত এবং প্রশাসনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা তারেক রহমানের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। 
২০০১ সালে বিএনপি জোট ক্ষমতায় আসার পর যে সহিংসতার প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছিল, তা মাথায় রেখে এবার তিনি শুরু থেকেই প্রতিশোধের রাজনীতি পরিহার করে ঐক্যের ডাক দিচ্ছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, প্রতিহিংসা কোনো সুফল বয়ে আনবে না।

অর্থনৈতিক সংস্কার ও কর্মসংস্থান 
বিগত শাসনামলে বাংলাদেশের জিডিপি বাড়লেও ক্রমবর্ধমান ব্যয়, বৈষম্য এবং বেকারত্বের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। বর্তমানে উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং টাকার মান কমে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে পড়েছে। এই সংকট কাটাতে তারেক রহমান ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর মাধ্যমে নারী ও বেকারদের মাসিক নগদ সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। পাশাপাশি তরুণ উদ্যোক্তাদের ডিজিটাল অর্থনীতিতে সম্পৃক্ত করতে ব্যাংকিং খাতকে উদারীকরণ এবং বিদেশে কর্মরত প্রায় ১ কোটি শ্রমিকের দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিচ্ছেন তিনি।

ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের সমীকরণ 
আঞ্চলিক পরাশক্তি ভারত এবং প্রধান রপ্তানি বাজার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন তারেক রহমানের পররাষ্ট্রনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে থাকছে। শেখ হাসিনার পতনের পর দিল্লির সঙ্গে সম্পর্কের যে শীতলতা তৈরি হয়েছিল, তা কাটাতে তিনি ইতিবাচক পদক্ষেপ নিচ্ছেন। ডিসেম্বরে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে তার বৈঠক একটি নতুন শুরুর ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে তিস্তা নদীর পানিবণ্টন চুক্তিসহ বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক অসমতা দূর করে জনগণের স্বার্থ রক্ষা করাই তার অগ্রাধিকার বলে তিনি জানান।
অন্যদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপ করা উচ্চ ট্যারিফ বা শুল্ক আলোচনার মাধ্যমে কমিয়ে আনার ক্ষেত্রেও অগ্রগতি হয়েছে। মার্কিন তুলা দিয়ে তৈরি পোশাক শুল্কমুক্ত সুবিধায় রপ্তানির সুযোগ পাওয়ার পাশাপাশি বোয়িং বিমান ও মার্কিন জ্বালানি অবকাঠামো ক্রয়ের মাধ্যমে বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনার পরিকল্পনা করছেন তারেক রহমান।

ইসলামপন্থি দল ও ছাত্র আন্দোলনের ভূমিকা 
নির্বাচনে বিএনপির পাশাপাশি বড় শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে জামায়াতে ইসলামী। তবে বিএনপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় সরকার পরিচালনায় জামায়াতের প্রভাব সীমিত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তারেক রহমান জানিয়েছেন, ৫ আগস্টের আগের অবস্থায় ফিরে না গিয়ে গণতন্ত্রে বিশ্বাসী সব দলকে নিয়ে দেশ এগিয়ে নেওয়াই এখন মূল লক্ষ্য। 
অন্যদিকে জুলাই বিপ্লবের মূল কারিগর ছাত্র আন্দোলনের মধ্যে কিছুটা বিভাজন দেখা দিলেও তারেক রহমান শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেছেন।