
ভোটগ্রহণ শুরুর প্রায় ১ ঘণ্টা পরও গোপালগঞ্জ শহরের বীণাপাণি সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্র ছিল প্রায় ফাঁকা। চোখে পড়ে কেবল নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা বাহিনীর সদস্যদের। বেলা ও রোদের তীব্রতা কিছুটা বাড়লে দু-একজন করে ভোটার কেন্দ্রে আসতে শুরু করেন।
বিদ্যালয়টিতে নারী ও পুরুষদের জন্য আলাদা কেন্দ্র করা হয়েছে। নারীদের কেন্দ্রের ভোটার সংখ্যা ২ হাজার ১৯৭ জন। এর দায়িত্বে থাকা প্রিসাইডিং কর্মকর্তা জামাল হোসেন গাজী জানান, সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত ভোট পড়ে ২৩টি। সাড়ে ৯টার দিকে তা ৪৫ জনে পৌঁছায়। তিনি আশা করছেন বেলা আরও বাড়লে কেন্দ্রটিতে ভোটার উপস্থিতি দেখা যাবে।
বীণাপাণি সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে নিয়োজিত নিরাপত্তাকর্মীরা
বিদ্যালয়টির পুরুষ কেন্দ্রের ভোটার ১ হাজার ৯৫৯ জন। এখানকার প্রিসাইডিং কর্মকর্তা রামপ্রসাদ সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ঘণ্টায় ভোট পড়ে ৪৭টি। দ্বিতীয় ঘণ্টায় তা ১০৯-এ দাঁড়ায়।
বীণাপাণি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় ছাড়াও সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত গোপালগঞ্জ শহরের পাঁচটি কেন্দ্র ঘুরে দেখেছেন এই প্রতিবেদক। প্রথম দুই ঘণ্টায় এসব কেন্দ্রের কোনোটিতেই ভোটাপ্রদানের সংখ্যা ২০০ ছাড়ায়নি। শহরের রেশমা ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে সাড়ে ৯টার দিকে দু-একজন ভোটার আসতে দেখা যায়। এর আধাঘণ্টা আগে কেন্দ্রটির ফটকে ককটেল বিস্ফোরণ করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্ত। বিস্ফোরণে দুই আনসার সদস্য ও এক কিশোরী আহত হয়।
কেন্দ্রটির প্রিসাইডিং কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম বলেন, ককটেল বিস্ফোরণের কারণে ভোটগ্রহণে ব্যাঘাত ঘটেনি। এখানে মোট ভোটার ৩ হাজার ৪৪৮ জন। প্রথম দুই ঘণ্টায় ভোট দিয়েছেন ১৯৮ জন।
নির্বাচন ঘিরে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোতে গত কয়েকদিন ধরেই খবরের শিরোনাম হয়েছে গোপালগঞ্জ। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রায় প্রতিবারই এই জেলার আসনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে বিবিসি ও বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছিল, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এবারের নির্বাচনে না থাকায় এর প্রভাব পড়তে পারে গোপালগঞ্জের কেন্দ্রগুলোতে।
সকাল নয়টার দিকে রেশমা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল কেন্দ্রের ফটকে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় শহরের এস এম মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়েও ভোটার উপস্থিতি কম দেখা যায়। এখানকার প্রিসাইডিং কর্মকর্তা রতন কুমার সাহা জানান, এটি মহিলা ভোটারদের কেন্দ্র। মোট ভোটার ২ হাজার ২৬৮। সকাল ১০টা পর্যন্ত এখানে ৫১ জন ভোট দিয়েছেন।
পাশেই এস এম মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে পুরুষদের কেন্দ্রের ভোটার সংখ্যা ২ হাজার ৯৭। প্রিসাইডিং কর্মকর্তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সকাল ১০টা পর্যন্ত ভোট পড়ে ১০৫টি। কেন্দ্রের সামনে কথা হয় কয়েকজন ভোটারের সঙ্গে। তাদের মধ্যে কাঞ্চন শাহ রাফি নামের এক তরুণ ভোটার বলেন, তিনি প্রথমবার ভোট দিয়েছেন। নতুন নেতৃত্বের কাছে প্রত্যাশা থাকবে নির্দিষ্ট এলাকায় জোর না দিয়ে দেশের উন্নয়ন করা।
আরেক ভোটার কণিকা রানী মন্ডল বলেন, ‘আমি চাই দেশে শান্তি থাকুক। আমার সন্তানরা ভালো থাকুক।’ সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোটও অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কণিকা বলেন, বিষয়টি তিনি ভালো বুঝতে পারেননি।