সেনাবাহিনী কর্তৃক সংবাদকর্মীদের তুলে নেওয়া মুক্ত গণমাধ্যমের জন্য ‘ভীতিমূলক দৃষ্টান্ত’

টিআইবি
ডেস্ক রিপোর্ট
  ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২২:৪৪


সংবাদমাধ্যমের কার্যালয় থেকে রাতে ২১ জন কর্মীকে তুলে নেওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, এ ঘটনা দেশের গণমাধ্যমের ওপর ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টির একটি গুরুতর দৃষ্টান্ত।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে টিআইবির কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। ‘গণভোট ও প্রাক্-নির্বাচন পরিস্থিতি: টিআইবির পর্যবেক্ষণ’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
বক্তব্যের শুরুতেই ড. ইফতেখারুজ্জামান আগের রাতে সেনাবাহিনী কর্তৃক ‘বাংলাদেশ টাইমস’-এর কার্যালয় থেকে কর্মীদের তুলে নেওয়ার ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া রাতের বেলা একটি প্রতিষ্ঠানের সব কর্মীকে তুলে নেওয়া সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। তিনি বলেন, যেকোনো যুক্তিতেই হোক না কেন, এ ধরনের ঘটনা বাংলাদেশের মুক্ত সাংবাদিকতার জন্য অত্যন্ত নেতিবাচক ও সহিংসতার বার্তা দেয়।
তিনি আরও বলেন, কোনো সংবাদ বা প্রতিবেদনের বিষয়ে আপত্তি থাকলে তা সমাধানের জন্য আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক পথ রয়েছে। কিন্তু এভাবে স্বৈরতান্ত্রিক কায়দায় কর্মীদের তুলে নেওয়া—যদিও পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে—তবুও এটি শুধু একটি গণমাধ্যমের জন্য নয়, বরং পুরো দেশের সংবাদমাধ্যমের জন্য ভয়ভীতির পরিবেশ তৈরি করেছে।
ড. ইফতেখারুজ্জামান এ ঘটনায় সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া কোনো সেনা কর্মকর্তা এ ধরনের কাজ করতে পারেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। যদি অনুমোদন ছাড়া এমন ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে সেনাবাহিনীর ‘কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল’ ব্যবস্থা কোথায়—সেটিও স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
এ প্রসঙ্গে তিনি দ্য ডেইলি স্টার ও প্রথম আলোর কার্যালয়ে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এসব ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, অথচ মাত্র দুই দিন আগেই সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকে ‘জাতির দর্পণ’ আখ্যা দিয়ে ভীতিহীনভাবে সংবাদ প্রচারের কথা বলা হয়েছিল।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, কথার সঙ্গে কাজের এই অসঙ্গতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি সেনাবাহিনীসহ সব প্রতিষ্ঠানকে এ ধরনের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান এবং দেশে মুক্ত ও স্বাধীন গণমাধ্যমের ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দেন।