চট্টগ্রাম বন্দরে ধর্মঘট চলতে দেওয়া যায় না, কঠোর হবে সরকার

উপদেষ্টা সাখাওয়াত হোসেন
ডেস্ক রিপোর্ট
  ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২২:০৩


চট্টগ্রাম বন্দরে ধর্মঘট চলতে দেওয়া যায় না বলে মন্তব্য করেছেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, এ বিষয়ে সরকার কঠোর অবস্থানে যাবে।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
বিদেশি কোম্পানির কাছে বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এবং চার দফা দাবিতে বন্দরে ফের অনির্দিষ্টকালের জন্য শুরু হয়েছে শ্রমিক ধর্মঘট। রোববার সকাল ৮টায় তা শুরু হয়।
সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘কতিপয় লোক পুরো বন্দরকে জিম্মি করার চেষ্টা করছে। আর কয়েকদিন পরে রোজা। আমরা প্রতিনিয়ত নদীতে অভিযান চালাচ্ছি। বহির্নোঙরে পড়ে আছে ছোলা, ডাল ও তেল। ১৮ কোটি মানুষকে তারা (ধর্মঘটকারীরা) জিম্মি করেছে। এটা চলতে দেওয়া যায় না। সরকার কঠোর অবস্থানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এরই মধ্যে কয়েকজনকে ধরা হয়েছে, বাকিদেরও ধরা হবে।’
এদিকে চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম মনিরুজ্জামান দাবি করেন, সেখানকার অবস্থা স্বাভাবিক। শ্রমিক-কর্মচারীরা কাজে যোগ দিয়েছেন। এর মধ্যে কেউ বিশৃঙ্খলা করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আইনি ব্যবস্থা নেবে।
রোববার দুপুরে বন্দর ভবনের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে তিনি সকাল ১০টা থেকে কর্মকর্তা ও শ্রমিক-কর্মচারীদের সঙ্গে দুই ঘণ্টা রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন।
বন্দর চেয়ারম্যান বলেন, ‘আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আমি আজ সকালে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে বৈঠকে গিয়েছি। সবাইকে বলেছি ভোট দিতে হবে। একটি পক্ষ নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য বন্দরে বিশৃঙ্খলা তৈরি করছে। কোনো অবস্থায়ই নির্বাচন বিঘ্নিত করা যাবে না।’
চট্টগ্রাম বন্দর সচল রাখতে হার্ডলাইনে সরকারতিনি জানান, সামনে রমজান। একটি পক্ষ সংকট তৈরি করছে। এতে বাজারে দ্রব্যমূল্যে প্রভাব পড়তে পারে।
তিনি বলেন, ‘আমি চট্টগ্রাম বন্দর সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেছি, সেখানে গিয়েছি, আমি বোঝানোর চেষ্টা করেছি। তারা এখন নতুন নতুন দাবি নিয়ে আসছে, রাজনৈতিক দাবির মতো।’
নৌপরিবহন উপদেষ্টা বলেন, ‘আর কয়েকদিন পরে নির্বাচন, ওই আসনে (চট্টগ্রাম বন্দর এলাকায়) তারা একটা গণ্ডগোল তৈরি করতে চাচ্ছে। আমি প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে অনুরোধ করেছি, কারণ সেখানে যদি নির্বাচন ঠিকমতো না হয়, সারাদেশের নির্বাচন নিয়ে কথা উঠবে। এই সরকার অত্যন্ত স্পষ্ট আমরা কোনো ধরনের নির্বাচন মনিটরিং বা এরকম কোনো কিছু করছি না। নির্বাচন অবশ্যই অবাধ ও সুষ্ঠু হতে হবে।’
সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘যদি কেউ বন্দর চালু রাখার বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষভাবে ও পরোক্ষভাবে কোনো কিছু করে, তাহলে তাকে ধরা হবে। আমরা কঠোর অবস্থান নিয়েছি।’
চট্টগ্রাম বন্দর তো এখন বন্ধ আছে- দৃষ্টি আকর্ষণ করলে উপদেষ্টা বলেন, ‘পোর্ট চালু নাই পোর্ট চালু হবে। ১৮ কোটি মানুষকে জিম্মি রাখা যায় না। তাদের দাবিগুলো খুবই তুচ্ছ- অমুককে সরাতে হবে, তমুককে নিয়ে আসতে হবে, এটা করতে হবে, ওটা করতে হবে- ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এটা কী?’
চট্টগ্রাম বন্দরের ইজারা দিয়ে বিদেশি প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের চুক্তির বিষয়ে জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, ‘ডিপি ওয়ার্ল্ডের বিষয় অত্যন্ত পরিষ্কার। বিষয়টি এখনো চলমান, তারা একটি চিঠি প্রধান উপদেষ্টাকে দিয়েছে। তারা আরও সময় চায়। আমরা যে জায়গায় আছি, সেখানে আসতে তাদের আরো সময় প্রয়োজন। আলোচনা চলবে। প্রয়োজন হলে নির্বাচনের পরেও আলোচনা চলবে।’