
ভোটের আগেই সিলেটে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে এবং এ ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা দুর্বল। সিলেট নগরীর একটি অভিজাত হোটেলে অনুষ্ঠিত এক সংলাপে এমন মন্তব্য করেন আলোচকরা।
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের উদ্যোগে এবং নির্বাচন পর্যবেক্ষণ সংস্থা ভয়েস নেটওয়ার্ক ও ইম্পেক্ট ইনিশিয়েটিভের সহায়তায় এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।
সোমবার সিলেটে ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: সিলেট অঞ্চলের প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিতকরণে নাগরিক সমাজের প্রত্যাশা’ শীর্ষক এই সংলাপে সিলেট বিভাগের চার জেলার ১৯টি আসনের প্রার্থীদের হলফনামার বিশ্লেষণ উপস্থাপন করেন শাবিপ্রবির পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
সূচনা বক্তব্যে বিভাগের অধ্যাপক মো. সাহাবুল হক বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে নাগরিক সমাজের সক্রিয় ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
শাবিপ্রবির পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, সুশাসনের জন্য যোগ্য প্রতিনিধি নির্বাচন জরুরি।
তিনি বলেন, সিলেটের সংসদীয় আসনগুলোতে ব্যবসায়ী প্রার্থীর সংখ্যা বেশি এবং রাজনীতিতে ব্যবসায়িক স্বার্থ প্রাধান্য পাওয়ার প্রবণতা আশির দশক থেকে ধীরে ধীরে বেড়েছে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সিলেট জেলা শাখার সভাপতি সৈয়দা শিরিন আক্তার বলেন, অধিকাংশ রাজনৈতিক দল নারী প্রার্থী মনোনয়নের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি।
তিনি অভিযোগ করেন, ভোটের আগেই বিশেষ করে নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর প্রতি হয়রানি বাড়ছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নির্বাচন কমিশনের কার্যকর ভূমিকা দেখা যাচ্ছে না।
সিলেট মহানগর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, প্রার্থীদের আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। ঋণগ্রস্ত প্রার্থীরা জনগণের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারবেন কি না, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।
সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, একটি রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় এলে দেশে স্থিতিশীলতা আসবে। তিনি নাগরিক সমাজকে নতুন সরকার আসার পরও গণতান্ত্রিক চাপ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
শাবিপ্রবির পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের প্রধান সৈয়দ আশরাফুর রহমানের সভাপতিত্বে সংলাপে আরও বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত সিলেট-১ আসনের প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমান, বাসদের প্রার্থী প্রণব জ্যোতি পাল, সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট প্রেস ক্লাবের সভাপতি মুকতাবিস-উন-নুর, সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, সাবেক সভাপতি ইকবাল সিদ্দিকী, জামায়াতের নায়েবে আমির ড. নূরুল ইসলাম বাবুল, সিপিবির সিলেট জেলা সভাপতি সৈয়দ ফরহাদ হোসেন, জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় সদস্য নুরুল হুদা জুনায়েদ, স্বতন্ত্র প্রার্থী মইনুল বাকের, সাংবাদিক হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী, পরিবেশ ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ ট্রাস্টের সভাপতি শাহজামান চৌধুরী, ব্লাস্ট সিলেট ইউনিটের সমন্বয়ক ইরফানুজ্জামান চৌধুরী, নৃতাত্ত্বিক সম্প্রদায় উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক লক্ষীকান্ত সিংহ, এনসিপি নেতা আবু সাদেক খাইরুল ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক আসাদুল্লাহ আল গালিব।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক দিলারা রহমান ও ইম্পেক্ট ইনিশিয়েটিভের সহ-সমন্বয়ক মুহাম্মদ আয়াজ উদ্দিন।
সংলাপে বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সিলেটের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।